ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’
তবে গতকাল বুধবার যখন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হলো এবং প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সেটি অনুচ্ছেদ ধরে ধরে পড়ে শোনালেন ও প্রতিটি অংশের পক্ষে ব্যাখ্যা দিলেন, তখন সেটিকে মোটেও আত্মসমর্পণের দলিল মনে হয়নি। বরং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ইরান শুধু টিকে থাকেনি, উদ্যাপন করার মতো অনেক কিছু নিয়েও বেরিয়ে এসেছে।
তেল বিক্রির সুযোগ
প্রথমেই রয়েছে তেহরানের শত শত কোটি ডলারের তেল বিক্রির সুযোগ ফিরে পাওয়া। এর ফলে সংকটে থাকা ইরান সরকারের ওপর চাপ কমবে। একই সময়ে আলোচকেরা আরও দীর্ঘমেয়াদি এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নথি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রাম্প গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সেই নথিই আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
ক্ষমতার প্রভাব বা দর-কষাকষির শক্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া একজন প্রেসিডেন্টের জন্য এই সিদ্ধান্তও যুদ্ধের আরেকটি রহস্য হয়ে আছে।
তবে ‘সমঝোতা স্মারক’-এর ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান হয়তো হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ী সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে।
এটি কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ যেভাবে অবাধ চলাচল করত, তার বাইরে অন্য কিছু ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ এবং সেটা ‘হতে দেওয়া যাবে না’।
বুধবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন, সেটা এমন একটি পথও দেখাচ্ছে, যার মাধ্যমে ইরান বহু বছর ধরে জব্দ থাকা শত শত ডলারের সম্পদ ফেরত পেতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন, সেটা এমন একটি পথও দেখাচ্ছে, যার মাধ্যমে ইরান বহু বছর ধরে জব্দ থাকা শত শত ডলারের সম্পদ ফেরত পেতে পারে।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন, এই অর্থ কেবল ‘ভালো আচরণের’ বিনিময়ে ছাড় দেওয়া হবে।
তবে বাস্তবে ট্রাম্পের এই ছাড় অনেকটাই সেই ধরনের, যা ১১ বছর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দিয়েছিলেন। এ জন্য ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ওবামার কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
ট্রাম্প প্রায়ই সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খুব একটা শক্তিশালী নয় এমন নৌবাহিনী ডুবিয়ে দিয়েছে, ছোট আকারের বিমানবাহিনী ধ্বংস করেছে, প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মোবাইল উৎক্ষেপণের অনেকগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।
কিন্তু যুদ্ধ শুরুর আগে এগুলো ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল না।
অভিযান শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস, সরকারের পতন। পরে তিনি এমনও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের তেলশিল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও তাঁর লক্ষ্য।
আগামী কয়েক দিনে এই চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ হবে।
ট্রাম্পের নিজের রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থীরা ইতিমধ্যে আপত্তি জানাতে শুরু করেছেন।
কট্টর ইহুদিবাদী ইসরায়েল সরকারও আপত্তি জানিয়েছে। আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে তাদের। তারা আশঙ্কা করছে, ট্রাম্প তাদের এমন এক যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করছেন, যা হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার তাদের কথিত অভিযানকে ব্যাহত করবে।
ইতিহাসবিদেরা বহু বছর ধরে এই সংঘাতের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করবেন। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এতে ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৩ হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন।
তবে ট্রাম্প কেন এত দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়ে সম্ভবত সবচেয়ে পরিষ্কার উত্তর দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। বুধবার হোটেল রয়ালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি চাননি তাঁর সঙ্গে হার্বাট হুবারের তুলনা করা হোক।
হুভার ছিলেন সেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাঁর আমলে শেয়ারবাজারে ধস নেমেছিল এবং শুরু হয়েছিল মহামন্দা।
ট্রাম্প বলেন, ‘হুবার সব সময়ই এমন এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর মতো আমি হতে চাইনি। আমি অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।’
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্বে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যেতে শুরু করত।
অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও তেলবাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি—এই দুটির সমন্বয়কেই যুদ্ধের শুরু থেকে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে দেখেছিল ইরান। তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই কৌশল বাস্তবায়ন করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা, লবণমুক্তকরণ কারখানা, হোটেল ও বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কৌশল কাজ করেছে। যদি এটিই ইরানের কৌশলের প্রথম ধাপ হয়ে থাকে, তাহলে ইতিহাস বলছে দ্বিতীয় ধাপ হতে পারে বিলম্ব আর বিলম্ব।
অতীতের আলোচনাগুলোতে ইরানিরা প্রতিটি অনুচ্ছেদ নিয়ে তর্ক করার শিল্পে দক্ষ হয়ে উঠেছিল। তারা পরিদর্শনের পথে নতুন বাধা তৈরি করত কিংবা ‘পারমাণবিক গবেষণা’ শব্দটির নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করত।
সাবেক মার্কিন আলোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। তিনি আগের বহু আলোচনায় অংশ নিয়ে আরও অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন।
ট্রাম্প মনে হচ্ছে ধীরগতি ও দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার পথই খুলে দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, গত বছরের মার্কিন বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে তিনি খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। বুধবার তিনি স্বীকার করেছেন, আলোচনা সম্ভবত ৬০ দিনের বেশি সময় চলবে।
ট্রাম্প কেন এত দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়ে সম্ভবত সবচেয়ে পরিষ্কার উত্তর দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। বুধবার হোটেল রয়ালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি চাননি তাঁর সঙ্গে হার্বাট হুবারের তুলনা করা হোক।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প আরও বড় কোনো সাফল্যের দাবি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় তিনি ইরানকে তাদের পারমাণবিক জ্বালানির মজুত দেশ থেকে বের করে দিতে রাজি করাতে পারলে তিনি দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিজয়ের দাবি করতে পারবেন।
এই যুদ্ধ যদি শেষ পর্যন্ত ইরানের নেতৃত্বকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং সেই দেশে বিক্ষোভ ও গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি করে—যেমনটি সংঘাতের শুরুতে ট্রাম্প আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাহলে সেখানেও তিনি কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন।
কিন্তু আপাতত মনে হচ্ছে ঠিক উল্টো ঘটনাই ঘটছে। বরং বলা যায়, ট্রাম্প নতুন নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এই নেতৃত্ব পরিচালনা করছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তিনি যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বহু বছর ধরে তদারকি করে আসা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলেই মনে হচ্ছে।
তবে কয়েক দিন আগে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ট্রাম্প এখন এই অভিজাত সামরিক বাহিনীকে শাসন পরিচালনার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে বাধ্য করছেন।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির দুর্বলতা ও ফাঁকফোকর নিয়ে ট্রাম্পের বহু বছরের সমালোচনা শুনেছেন ওবামা প্রশাসনের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাঁরা এবার পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে করছেন।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বুধবার অনলাইনে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতির একমাত্র ‘অর্জন’ হলো সম্ভবত হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও খোলা ছিল।
ব্লিঙ্কেন আরও লিখেছেন, ‘এবং মনে হচ্ছে, ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে ইরানকে আমরা অর্থও দেব। ইরান এখন দেখিয়ে দিয়েছে, তারা তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও বিশ্বের নির্ভরশীল অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের চলাচল বন্ধ বা ধীর করার সক্ষমতা রাখে।’
২০১৫ সালের চুক্তির অন্যতম স্থপতি ব্লিঙ্কেন উপসংহারে বলেন, ভবিষ্যতে তারা প্রায় নিশ্চিতভাবেই নিরাপদ যাতায়াতের বিনিময়ে কোনো না কোনো ধরনের ‘ফি’ আদায়ের পথ খুঁজে নেবে, যা শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
কিছু রিপাবলিকান সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ট্রাম্পের কৌশল হয়তো শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারে।
তবে ইরানবিরোধী কট্টরপন্থী ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মতাদর্শের অনেক সমর্থক প্রশাসনের পাঠানো চুক্তি-সমর্থক বক্তব্যগুলো পুনরাবৃত্তি করতেও রাজি হননি।
সবচেয়ে সরব সমালোচকদের বেশির ভাগেরই রাজনৈতিক অবসরের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তাই তাঁদের রাজনৈতিক ঝুঁকি কম।
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এমনই একজন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, রিগ্যান তাঁর কবরে উল্টে যাচ্ছেন।
গত মাসে ট্রাম্প তাঁকে হারানোর লক্ষ্য স্থির করার পর ক্যাসিডি নিজ দলের প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে পরাজিত হন। ক্যাসিডি বলেন, ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা ‘দমন করা যায়নি’। এই যুদ্ধ ইরানকে শিখিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তাদের প্রভাব বা চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা তারা আগে যা ভাবত, সেটি তার চেয়ে অনেক বেশি।
ক্যাসিডি এই যুদ্ধকে অভিহিত করেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতিগত ভুল।
তবে আরও বড় ঝুঁকি হয়তো অন্য জায়গায়। ৪০ দিনের বোমায় বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যখন ইরানের নেতারা শুরু করবেন এবং শিগগিরই আবার প্রবাহিত হতে থাকা তেল বিক্রির আয়ের শত শত কোটি ডলার কীভাবে ব্যয় করবেন তা ভাববেন, তখন তাঁরা হয়তো প্রশ্ন তুলবেন, তাঁদের পারমাণবিক কৌশল আদৌ সঠিক ছিল কি না।
ট্রাম্প মনে হচ্ছে ধীরগতি ও দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার পথই খুলে দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, গত বছরের মার্কিন বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে তিনি খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। বুধবার তিনি স্বীকার করেছেন, আলোচনা সম্ভবত ৬০ দিনের বেশি সময় চলবে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। তবে কখনো শেষ ধাপটি অতিক্রম করেনি।
তাদের ধারণা ছিল, বোমা তৈরির সক্ষমতার ঠিক আগের পর্যায়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলা থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট।
এর ফলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে থাকতে পেরেছে এবং দাবি করতে পেরেছে, তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
একই সঙ্গে তাদের এই নিশ্চয়তাও ছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই তারা চাইলে একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে।
ফলাফল কী হয়েছিল
২০২৫ সালের জুনে ইরান বোমা হামলার শিকার হয় এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও আগ্রাসনের মুখে পড়ে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে এগিয়ে যায় এবং ২০০৬ সালে প্রথম সফল পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে তাদের ৬০ বা তারও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেখার বিষয় হচ্ছে, আজকাল ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি দিচ্ছেন না।
গত রোববার ট্রাম্প যখন নিউইয়র্ক টাইমসকে ফোন করেছিলেন, তখন এই প্রতিবেদক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইরান কি এখন উত্তর কোরিয়ার পথ অনুসরণ করতে পারে?
উত্তরে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন–উন সম্পর্কে বলেন, ‘তাঁর কাছে গুরুতর পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।’
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প কিমকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে নিরস্ত্রীকরণে রাজি করাতে তিনবার সাক্ষাৎও করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘কিন্তু এটা কখনোই হতে দেওয়া উচিত ছিল না।’ এরপর তিনি জানতে চান, উত্তর কোরিয়া কি প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের আমলে নাকি প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে পারমাণবিক বোমা পেয়েছিল।
আসলে উত্তর হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে।
তবে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দেশটিকে উত্তর কোরিয়ার পথ অনুসরণে উৎসাহিত করতে পারে কি না—এই প্রশ্ন ট্রাম্প এড়িয়ে যান। তিনি কেবল জোর দিয়ে বলেন, তাঁর চুক্তিই ইরানকে থামিয়ে দেবে।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উচিত তাঁকে ধন্যবাদ জানানো। কারণ, তিনি ইসরায়েলকে পারমাণবিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যা প্রয়োজন, তা–ই করা হবে।’ এরপর তিনি ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সাতচল্লিশ বছর ধরে কেউ এটা করতে পারেনি। আর আমরা করেছি। আমরা সঠিক উপায়ে করেছি।’
ইতিহাস হয়তো একদিন প্রমাণ করবে, তিনি ঠিক ছিলেন। কিন্তু এখনই এমন দাবি করার সময় অনেক দূরে। হয়তো ট্রাম্প নিজেও সেটা জানেন, বুধবার সকালে তাঁর বক্তব্য থেকে তেমনটাই মনে হয়।
ট্রাম্প বলেন, যদি এই চুক্তি কার্যকর না থাকে, তাহলে তাঁর আরেকটি পরিকল্পনা আছে। সেটি হলো, ‘আবার বোমাবর্ষণে ফিরে যাওয়া।’