মার্কিন সিনেটে বাজেট বরাদ্দ–সংক্রান্ত কমিটির শুনানিতে কথা বলছেন ক্যাশ প্যাটেল। ১২ মে ২০২৬
মার্কিন সিনেটে বাজেট বরাদ্দ–সংক্রান্ত কমিটির শুনানিতে কথা বলছেন ক্যাশ প্যাটেল। ১২ মে ২০২৬

ক্যাশ প্যাটেলের অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ ঘিরে সিনেট শুনানিতে বিতণ্ডা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল গতকাল মঙ্গলবার সিনেটে বাজেট বরাদ্দ–সংক্রান্ত কমিটির শুনানিতে এক আইনপ্রণেতার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বিতর্কে জড়িয়েছেন। সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানিতে প্রশ্ন তোলা হলে এমন পরিস্থিতি হয়। সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, ক্যাশ প্যাটেল অতিরিক্ত মদ্যপান করেন।

মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্যাটেলের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ইরান–সংক্রান্ত হুমকি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এজেন্টদের সাম্প্রতিক বরখাস্ত এবং সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো সমনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

ভ্যান হোলেন বলেন, ‘পরিচালক প্যাটেল, আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আপনি নিজের সময় ও নিজের অর্থ দিয়ে কী করেন, তা নিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত আমার কিছু যায়–আসে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা আপনার সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলে।’

গতকাল মঙ্গলবারের এই শুনানিতে এফবিআইসহ বিচার বিভাগের অধীন পরিচালিত শীর্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ২০২৭ সালের বাজেট–সংক্রান্ত অনুরোধ নিয়ে আলোচনা হয়।

শুনানি চলাকালে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ক্যাশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে তাঁর কথিত আচরণ নিয়ে হওয়া সংবাদ প্রতিবেদনগুলো তুলে ধরে প্রশ্ন করেন। তাঁরা এফবিআইয়ের অভিবাসন ও নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্যাটেল এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে তাঁর নেতৃত্বে এফবিআইয়ের কার্যক্রমের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

ক্যাশ প্যাটেল দাবি করেন, এফবিআইয়ের তৎপরতার কারণে অপরাধের হার কমেছে, গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখজনকভাবে বেড়েছে। এফবিআই এজেন্টদের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সরিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

ভ্যান হোলেন ও ক্যাশ প্যাটেলের বাগ্‌বিতণ্ডা

শুনানির এক পর্যায়ে দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন নিয়ে ক্যাশ প্যাটেল ও সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন একে অপরের সঙ্গে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

সম্প্রতি দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাটেল অতিরিক্ত মদ্যপান করেছেন এবং কাউকে কোনো কারণ না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর এমন আচরণ সহকর্মীদের উদ্বিগ্ন করেছে।

ভ্যান হোলেন শুনানিতে বলেন, ‘আপনি যদি অক্ষম অবস্থায় থাকেন, তাহলে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।’ প্রকাশিত খবরকে উদ্ধৃত করে তিনি আরও দাবি করেন, প্যাটেল এতটাই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন যে তিনি দরজা খোলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তাঁর কর্মীদের বিকল্প ব্যবস্থায় তাঁর বাসায় ঢুকতে হয়েছিল।

প্যাটেল অবশ্য ইতিমধ্যে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং ওই প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। প্যাটেল বলেছেন, তিনি কখনো কর্মস্থলে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না।

ভ্যান হোলেনকে পাল্টা আক্রমণ করেন ক্যাশ প্যাটেল। বলেন, ভ্যান হোলেন নাকি ‘একজন দণ্ডিত অপরাধীর সঙ্গে মার্গারিটা পান করেছিলেন’।

সিনেটর কিলমার আব্রেগো গার্সিয়ার সঙ্গে ভ্যান হোলেনের সাক্ষাৎকে ইঙ্গিত করে ক্যাশ প্যাটেল এ অভিযোগ করেন। তবে ভ্যান হোলেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সেখানে কোনো মদ্যপান হয়নি।

পরে উত্তেজনা আরও বাড়লে ভ্যান হোলেন বলেন, তিনি চান, ক্যাশ প্যাটেল সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত একটি পরীক্ষায় অংশ নিন, যা মদ্যপানের সমস্যা আছে কি না, তা নির্ধারণ করে।

জবাবে প্যাটেল বলেন, ‘আপনি যেকোনো পরীক্ষার কথা বললেই আমি দেব। চলুন, তা একসঙ্গে করি।’

ক্যাশ প্যাটেল ও সিনেটর ভ্যান হোলেন শুনানির সময় একে অপরের সঙ্গে তর্কবিতর্ক চালিয়ে যান এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

শুনানির মধ্যেই প্যাটেলের এফবিআই এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের একটি নথি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ভ্যান হোলেন যে নৈশভোজের কথা বলেছেন, সেটির জন্য তিনি কয়েক হাজার ডলার খরচ করেছিলেন।

প্যাটেল শুনানিতে বলেন, ‘পরের বার যখন আপনি সাত হাজার ডলারের বার ট্যাব তুলবেন, তখন আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে পারি।’

জবাবে ভ্যান হোলেন আবারও প্রশ্ন তোলেন—প্যাটেল কি জানেন, কংগ্রেসে মিথ্যা বলা একটি অপরাধ? তিনি বলেন, ওই নৈশভোজটি ছিল ৫০ জনের জন্য এবং তা কোনো সরকারি অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা হয়নি।