বরুণ বাচিগারি
বরুণ বাচিগারি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগ ভারতীয় তরুণের বিরুদ্ধে, দেশে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার

মার্কিন প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর ১৯ বছর বয়সী প্রেমিকাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর তাঁকে জার্মানি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বলছে, ওই তরুণ জার্মানি হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ বছর বয়সী কলেজছাত্রী জুলিসা রুবি সালাজার টাকসন এলাকার ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খোঁজ নিতে অনুরোধ জানান।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ইউক্লিড অ্যাভিনিউ ও এলম স্ট্রিটের কাছে অবস্থিত ওই অ্যাপার্টমেন্টে যান। এরপর টাকসন ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কর্মীরা সালাজারকে অসাড় অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ বলেছে, সালাজারের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এর ভিত্তিতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা সালাজারের ২০ বছর বয়সী প্রেমিক বরুণ বাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সালাজারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

‘প্রেমিকার ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নিয়েছিলেন’

পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালাজারের ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নিয়েছিলেন ভারতীয় তরুণ বাচিগারি। এরপর তিনি ফোন থেকে সালাজারের মাকে একের পর এক খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়।

তদন্তকারীরা পরে জানতে পারেন, সালাজার যেদিন মারা যান, সেদিনই বাচিগারি টাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। তিনি প্রথমে হিউস্টনের একটি ফ্লাইটে ওঠেন। এরপর সেখান থেকে জার্মানির বার্লিনগামী আরেকটি উড়োজাহাজে ওঠেন। তাঁর শেষ গন্তব্য ছিল ভারত।

হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে বাচিগারির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ফেডারেল, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অ্যারিজোনার কর্মকর্তারা জার্মানি থেকে বাচিগারিকে আটকের ব্যবস্থা করেন।

কয়েক দিন আগে রুমমেটরা চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন

রুমমেটরা বলেছেন, সালাজারকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার কয়েক দিন আগে ৫ আগস্ট তাঁরা তাঁর শোবার ঘর থেকে জোরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন। পরে তাঁরা সালাজারকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি ঠিক আছেন কি না। সালাজার নাকি জবাব দিয়েছিলেন, তিনি ঠিক আছেন এবং একটি ঝগড়ার কারণেই ওই শব্দ হয়েছিল।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, বাচিগারির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন সালাজার। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে তিনি বাচিগারির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও করেছিলেন। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

বাচিগারির বিরুদ্ধে পিমা কাউন্টিতে আরেকটি আলাদা হামলার ঘটনায় মামলা চলছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত মে মাসে তাঁর বিরুদ্ধে ওই মামলা হয়।

বাচিগারি আগে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তিনি বিজনেস অ্যানালিটিকস বিষয়ে পড়ছিলেন। তবে একটি মারামারির ঘটনার পর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সম্প্রতি বাচিগারি চাকরিও হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে তাঁর পক্ষে বাড়িভাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাঁর ভিসার বৈধতাও ঝুঁকিতে পড়ে।

বাচিগারি এখনো জার্মানিতে নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন। তাঁকে অ্যারিজোনায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে তাঁকে পিমা কাউন্টি অ্যাডাল্ট ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হবে এবং তাঁকে হত্যা মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।