যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন সহায়তা কমিশনের সবশেষ তিন কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা নির্বাচন সহায়তা কমিশনের শেষ তিন কমিশনারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

‘ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশন’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করে থাকে। চার সদস্যের দ্বিদলীয় এ কমিশনের একজন কমিশনার গত এপ্রিলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। আর অপর তিন কমিশনারকে গতকাল ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।

গতকাল ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি এবং এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্রিফিং পাওয়া আরও দুই ব্যক্তি বলেছেন, ওই তিনজনের মধ্যে রিপাবলিকান মনোনীত একমাত্র কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। আর ডেমোক্র্যাট মনোনীত বাকি দুই কমিশনারকে হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিস থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

চার সদস্যের দ্বিদলীয় এ কমিশনের একজন কমিশনার গত এপ্রিলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। আর অপর তিন কমিশনারকে গতকাল ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর এ বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে। ওই রায়ে প্রেসিডেন্টকে স্বাধীন সরকারি সংস্থাগুলোর সদস্যদের অপসারণের ক্ষেত্রে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সাধারণত অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপরই থাকে।

কমিশনের কর্মকর্তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানিয়ে পাঠানো ই-মেইল দেখেছে রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের কমিশনার হিসেবে আপনার দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ করা হলো। আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ।’

রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করার পর হোয়াইট হাউসও কমিশনারদের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিরাপদ রাখা এবং প্রতিটি বৈধ ভোট গণনা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজে পুরোপুরি একমত নন বলে মনে হবে, তাঁদের অপসারণের অধিকার প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাহী বিভাগের প্রধানের আছে।’

ওই কর্মকর্তা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনকে জালিয়াতি ও অনিয়ম থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এ কাজে শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংস্থাটি নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্যের জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এর লক্ষ্য, ভালোভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করা এবং মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সাহায্য করা। ১৯৯৩ সালের ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীন চালু করা ‘জাতীয় ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধন ফরম’–এর তত্ত্বাবধানও করে সংস্থাটি।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার জন্য ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রচারের পরই এ বরখাস্তের ঘটনা ঘটল। একই সঙ্গে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়েও তদন্ত চলছে। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরও ট্রাম্প বারবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

২০০২ সালে হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে কংগ্রেস ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশন গঠন করে। চার সদস্যের এ কমিশনের সদস্যদের প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেন। আইন অনুযায়ী, কমিশনে দুজন ডেমোক্র্যাট ও দুজন রিপাবলিকান সদস্য থাকতে হবে এবং তাঁদের নিয়োগ কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদনও লাগবে।

যাঁদের এবার কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন—থমাস হিকস, বেঞ্জামিন হোভল্যান্ড ও ক্রিস্টি ম্যাককরমিক। তাঁদের প্রত্যেককে সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দিয়েছিল।

২০০২ সালের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কমিশনে নতুন সদস্য নিয়োগ দিতে পারেন। তবে ট্রাম্প এখন কমিশনটি কীভাবে পরিচালনা করবেন বা নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই বরখাস্তের ঘটনাটি দলমত নির্বিশেষে সব মার্কিন নাগরিকের উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।