
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিখ্যাত স্থাপনা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়া থেকে রাশিয়ার এক যুগলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, গতকাল বুধবার কালো রংয়ের পোশাক পরা দুই ব্যক্তি ঐতিহাসিক আকাশচুম্বী এ ভবনের প্রধান অ্যানটেনার ওপর দাঁড়িয়ে দৃশ্যত একে অপরকে চুম্বন করছেন।
মাটি থেকে প্রায় ৪৪৩ মিটার (১ হাজার ৪৫৪ ফুট) উঁচুতে অবস্থান করার সময় এই যুগল একটি ব্যানার উন্মোচন করেন। তাতে লেখা ছিল, ‘ভালোবাসার শক্তি যখন ক্ষমতার প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে পরাজিত করে, পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।’
১০২ তলা উঁচু এম্পায়ার স্টেট ভবনের যে অংশটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, তার চেয়েও অনেক ওপরে অবস্থিত অ্যানটেনায় ওই দুজন কীভাবে পৌঁছালেন, তা স্পষ্ট নয়।
পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অ্যানটেনায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই ব্যক্তিকে নিচে নামিয়ে আনতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়।
মই বেয়ে ওঠার সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা কী করছেন?’ তাঁরা দুজন কী জবাব দিয়েছিলেন, বাতাসের শব্দে তা শোনা যায়নি। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠিক আছে, আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না।’
ভিডিওতে মই বেয়ে ওঠার সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে দেখা যায়। গতকাল দিনের শেষ ভাগে পুলিশের বডি–ক্যামেরার ওই ফুটেজ প্রকাশ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া যুগল হলেন রাশিয়ার নাগরিক ভানিয়া বেয়ারকুস ও অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ। ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া প্রামাণ্যচিত্র ‘স্কাইওয়াকার্স: আ লাভ স্টোরি’–তে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা। প্রামাণ্যচিত্রে শহরের উঁচু ভবনে ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ খেলা ‘রুফটপিং’-এর প্রতি তাঁদের আগ্রহ প্রকাশ পায়।
এদিকে মেয়ের এ কাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন কি না, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে অ্যাঞ্জেলার বাবা দিমিত্রি নিকোলাউ বলেন, ‘আমার উদ্বিগ্ন হওয়ার কী আছে? আমি নিজেই বিভিন্ন ভবনের ছাদে উঠি।’
রয়টার্স জানিয়েছে, দিমিত্রি নিকোলাউ একজন রুশ সার্কাসশিল্পী। তিনি আগে থেকেই জানতেন, তাঁর মেয়ে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে চড়তে যাচ্ছেন।
নিকোলাউ রয়টার্সকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ যেকোনো দেশে, যেকোনো সংবিধান অনুযায়ীই কোনো ভবনের ছাদে ওঠা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয়।’ যদিও এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি।
এক বিবৃতিতে ভবনের একজন মুখপাত্র ওই যুগলের ঘটনাকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বাগ্দান উদ্যাপনের জন্য ওই যুগলের উচিত ছিল এক হাজার ডলারে ভবনের ‘হ্যাপি এভার এম্পায়ার প্রপোজাল প্যাকেজ’ কিনে তারপর বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া।