মতিউর রহমান বক্তব্যের শুরুতেই স্মরণ করেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের কথা। তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রথম আলো প্রকাশিত হয়। প্রধান উদ্যোক্তা লতিফুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন মাহ্‌ফুজ আনাম। সেই শুরু থেকেই লক্ষ্য, স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে হবে। নিজে আয় করে চলতে হবে। ১৯৯৮ সালে যখন শুরু করি, কর্মী ছিলাম ১০৬ জন। এখন ১ হাজার ৩০ জন। অফিসের জায়গা বা স্থান ছিল ৬ হাজার স্কয়ার ফুট। এখন ৭০ হাজার স্কয়ার ফুট।’

প্রথম আলোর এই যাত্রা সহজ ছিল না উল্লেখ করে মতিউর রহমান বলেন, ‘ভয় দেখানো হয়, চাপ প্রয়োগ করা হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আমাদের কর্মীরা হামলা ও মামলার শিকার হন। অদৃশ্য জায়গা থেকে চাপ আসে। বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে। আমরা বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাই।’

এখনই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, গভীর বিশ্লেষণ, আরও মানবিক ও বিজয়ের গল্প বলতে হবে। মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণামূলক সাংবাদিকতা করতে হবে।

প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কাজ উপলক্ষে সম্প্রতি কুড়িগ্রামে প্রথম আলো চর এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী গিয়েছিলেন বলে জানান মতিউর রহমান। ১৯৯৯ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা কীভাবে ‘প্রথম আলো চর’ নামে গড়ে উঠল, সে গল্প শোনান তিনি। সেই চরে গড়ে ওঠা স্কুলে চলতি বছর শিশু থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬৬। স্কুলটি এখন পরিচালনা করে প্রথম আলো ট্রাস্ট।

প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান বলেন, ‘কুমারখালী থেকে ১৮৬৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা। ব্রিটিশ প্রশাসন আর জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখা হতো। এই সত্য প্রকাশের জন্য পত্রিকাটির বিরুদ্ধে হামলা হতো, আক্রমণ হতো। এই আক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড়িয়েছে, লালন সাঁই তাঁর দলবল নিয়ে এসে প্রতিরোধ করেছিলেন। এসব আক্রমণের মুখে গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা বারবার বন্ধ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আর টিকে থাকতে পারেনি। পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রথম আলো বন্ধ হবে না। আমরা সৎ আর স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখব।’

এসবই বাস্তব। নতুন সম্ভাবনা আমরা দেখছি—অনলাইন-ডিজিটাল জগৎ। এই জগতে আমরা আছি এখন। এখানে আমাদের আরও বড় হতে হবে।

ভারত সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কলসিন্দুর। এই গ্রামের আট মেয়ে এবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন। নানা দিক থেকে পিছিয়ে থাকা এই গ্রামের মেয়েদের এগিয়ে নিতে কীভাবে প্রথম আলো এগিয়ে এসেছে, সেই গল্প শোনান মতিউর রহমান। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে এসব মেয়েসহ ২৫ জনকে স্কলারশিপ দেওয়া হতো প্রথম আলোর পক্ষ থেকে। সেই গ্রামের স্কুল ভবন, বিদ্যুৎ সরবরাহ—এসব কাজে সাহায্য করেছে প্রথম আলো।

এখনই সেরা সময় সাংবাদিকতার মন্তব্য করে মতিউর রহমান বলেন, এখনই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, গভীর বিশ্লেষণ, আরও মানবিক ও বিজয়ের গল্প বলতে হবে। মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণামূলক সাংবাদিকতা করতে হবে। আগামী বছর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আরও ভালো পত্রিকা করতে হবে, বড় অনলাইন পত্রিকার পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে হবে।

সংবাদপত্রের পাঠকের চাওয়া বদলে যাচ্ছে বলে মনে করেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এসবই বাস্তব। নতুন সম্ভাবনা আমরা দেখছি—অনলাইন-ডিজিটাল জগৎ। এই জগতে আমরা আছি এখন। এখানে আমাদের আরও বড় হতে হবে। সাংবাদিকতায় নতুন নতুন বিষয় ও কৌশল শিখতে হবে। নতুন চিন্তা, নতুন কৌশল ও যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।’

৪ নভেম্বর ছিল প্রথম আলোর ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ‘সত্যে তথ্যে ২৪’ আহ্বান নিয়ে প্রথম আলোর ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। আজকের কর্মী উৎসবে ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন সহকর্মীরা। ঢাকা কার্যালয়ের কর্মীরাও হাজির হয়েছেন অনুষ্ঠান শুরুর আগেই। নারী সহকর্মীরা পরেছেন শাড়ি আর পুরুষ সহকর্মীরা টি-শার্ট। হাসি, আড্ডা ও গল্পে জমে উঠেছে কর্মীদের এই মিলনমেলা।