আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশের আদালত ও আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ফোনে পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতের নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে, যাতে আর কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে।

এর আগে দুপুরে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়সংলগ্ন ঢাকার সিজেএম আদালত ফটকের সামনে থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির এবং মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে ছিনিয়ে নেন তাঁদের কয়েক সহযোগী।

পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁরা জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য।

ঘটনা সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, একটি মামলায় শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে সহযোগীরা হাজতখানা পুলিশের চোখে স্প্রে ছিটিয়ে, কিল-ঘুষি মেরে মইনুল হাসান শামীম ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নেন। এরপর তাঁরা দুটি মোটরসাইকেলে রায়সাহেব বাজার মোড়ের দিকে পালিয়ে যান।

পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর সারা দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ (সর্বোচ্চ সতর্কতা) জারি করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন।

এদিকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।