শহীদ হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় নিয়েছে বাদীপক্ষ। এখন এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানি হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি)।
অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বাদীপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানির এই দিন ধার্য করেন। বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজ বাদীপক্ষে তিন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বাদীপক্ষ থেকে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত আগামী বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানির দিন রাখেন।
বাদীপক্ষে নিয়োগ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বলতেন, শত্রুর সঙ্গেও তিনি ন্যায়বিচার চান। তাঁর এই কথা মাথায় রেখে তাঁরা মামলার অভিযোগপত্র নিয়ে আরও পর্যালোচনা করতে চান। তাঁরা চান, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান।
মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাঁরা দুই দিন সময় নিয়েছেন। এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আপত্তি আছে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা ১৫ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত জানাবেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে মোট ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ঘটনার ২৪ দিনের মাথায় ৬ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা-পরিকল্পনায় ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলি করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ। গুলি করার সময় ফয়সাল করিমকে বহনকারী মোটরসাইকেলটির চালক ছিলেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন।
এই তিন আসামির কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তাঁরা পলাতক। তাঁরা পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আরও তিন আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ফিলিপ স্নাল।
অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদি গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটর দিকে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁর মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলি লাগে। তিনি মারাত্মক জখম হন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় গত ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।