বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক–আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৭ অক্টোবর ওই আদেশ দেন। আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়। আদেশে আদালত বলেছেন, সংযুক্ত নথিতে দেখা যায়, ‘রত্না আক্তার রহিমার নবজাতক ও অপর দুই সন্তানের সহায়তা হিসাব’ নামে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ত্রিশাল সোনালী ব্যাংক শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলেন। কিন্তু ওই হিসাবে চেকের অর্থ জমা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ নেই। প্রদেয় অর্থ শিশুটির অনুকূলে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্য দুই শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে যে নামে হিসাব খোলা হয়েছে, তা যৌথ হিসাব বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ অবস্থায় শিশুটির জন্য চেকের অর্থ (পাঁচ লাখ টাকা) জমা করা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানিয়ে তিন মাসের (হাইকোর্টের এ আদেশ পাওয়ার) মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আদালতে প্রতিবেদন দিতে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হলো। পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে।

জানতে চাইলে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি ৩ নভেম্বর হাতে পেয়েছি। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

এর আগে গত ১৬ জুলাই ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় এক দম্পতি ও তাঁদের ছয় বছরের মেয়ে নিহত হয়। মৃত্যুর আগমুহূর্তে অন্তঃসত্ত্বা মা সড়কে এক মেয়েসন্তান জন্ম দেন। উপজেলার কোর্ট ভবন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম রাখা হয় ফাতেমা। পরে শিশুটিকে রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত ছোটমণি নিবাসে আনা হয়। সেখানেই আছে শিশুটি।

দুর্ঘটনার পর নবজাতকের (ফাতেমা) পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও কল্যাণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে ১৮ জুলাই আইনজীবী কানিজ ফাতিমা তুনাজ্জিনা রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে পরদিন হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। হাইকোর্ট শিশুটির জন্য তাঁর অভিভাবককে ১৫ দিনের মধ্যে ৫ লাখ টাকা দিতে সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারা অনুসারে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডকে নির্দেশ দেন। এ অর্থ পরিশোধে সময় চেয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাইকোর্টে আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ আগস্ট ট্রাস্টি বোর্ডকে এক মাস সময় দেন। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিশুটির অভিভাবকের কাছে পাঁচ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ৩০ আগস্ট আদালতকে জানান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ অক্টোবর বিষয়টি আদালতে ওঠে। সেদিন আদালতে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের পক্ষে আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন।