মব সন্ত্রাস ও অনলাইনে আক্রমণে নিরাপত্তাঝুঁকিতে নারীরা
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন বি এম ফাহমিদা আলম। সে সময় তিনি অনলাইনে আক্রমণের শিকার হন। তাঁকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘শাহবাগি’, ‘গায়ে দুর্গন্ধ’, ‘গোসল করে না’—এমন বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর ডিসমিসল্যাব প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাকসু নির্বাচনে আলোচিত পাঁচ নারী প্রার্থীর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষ ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ফাহমিদা আলম।
৩ জানুয়ারি ফাহমিদা আলম প্রথম আলোকে বলেন, সাহসী মেয়েদের হতোদ্যম করতে উগ্র ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী অনলাইনে যৌন নিপীড়নমূলক মন্তব্য করে। নির্বাচনের সময় তিনি অনলাইনে ভিন্ন মতাদর্শের গোষ্ঠীর এতটাই বিদ্বেষ ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন যে পরিবারের সদস্যরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। অনেকেই তাঁকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় নারীদের পাশাপাশি সংস্কৃতি কর্মী, নারী খেলোয়াড়, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরাও অনলাইন সহিংসতা থেকে রেহাই পাননি।
গত বছরের শুরুর দিকে ৪ ফেব্রুয়ারি নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় ২৩ বছর বয়সী মাতসুশিমা সুমাইয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় ২০২৫ সালের ১১ মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ১৮ শতাংশ বেশি মামলা হয়েছে। গত ৪ বছরের মধ্যে ১১ মাসের হিসাব কষলে গত বছরই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মামলা হয়েছে।
ভার্চ্যুয়াল জগতের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ছিল উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের পর একটি গোষ্ঠী কিছু সুপারিশ নিয়ে আপত্তি তোলে। তখন কমিশনের প্রধান ও সদস্যদের আক্রমণ করেও নানা মন্তব্য করা হয়েছিল।
বছরের শেষ দিকে এসে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে নিয়েও অপমানজনক মন্তব্য করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।
এ ছাড়া বাড়ি ঢুকে ধর্ষণ-নিপীড়ন, বাসে যৌন নিপীড়নের ঘটনারও আধিক্য ছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় ২০২৫ সালের ১১ মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ১৮ শতাংশ বেশি মামলা হয়। গত ৪ বছরের মধ্যে ১১ মাসের হিসাব কষলে গত বছরই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মামলা হয়েছে।
২৪ শতাংশ মন্তব্য বিদ্বেষমূলক
ডাকসুর নারী প্রার্থীদের ওপর অনলাইন আক্রমণ নিয়ে ডিসমিসল্যাব পাঁচ নারী প্রার্থীকে আক্রমণের ধরন নিয়ে গবেষণা করেছে। ওই পাঁচ নারী প্রার্থী হলেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা, বামপন্থী ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ফাতিমা তাসনিম জুমা, বামপন্থী ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ জোটের প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম এবং ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী হেমা চাকমা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মব সংস্কৃতি ও নারীর ওপর আঘাত বেড়েছে। নারীরা যদি ভয়ের মধ্যে থাকেন, তবে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। জরিপে উঠে এসেছে, নারীরা চান, পুরুষদের জেন্ডার সংবেদনশীলতা গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে করে সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগৃহীত ৫০০টি পোস্টের মধ্যে ২২ শতাংশ (১১০টি) পোস্টে বিদ্বেষ ও হয়রানিমূলক উপাদান ছিল। এসব পোস্টের নিচে থাকা মোট ১৩ হাজার ৬৭৪টি মন্তব্যের ২৪ শতাংশই ছিল বিদ্বেষ ও হয়রানিমূলক। সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন ফাহমিদা আলম ও তাসনিম আফরোজ ইমি। ফাহমিদার পোস্টে ৩৯ শতাংশ এবং ইমির পোস্টে ৩৮ শতাংশ মন্তব্য ছিল বিদ্বেষপূর্ণ। এদের মধ্যে সবচেয়ে কম (৪ শতাংশ) বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের শিকার হন ফাতিমা তাসনিম জুমার ক্ষেত্রে।
মব আতঙ্ক
গত বছরের ১ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে ধূমপান করাকে কেন্দ্র করে দুই নারীকে ‘মব’ সৃষ্টি করে মারধর করা হয়। তাঁদের একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার পর থানাতেও মব জড়ো হয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পারিবারিক সহিংসতার ৫৬০টি ঘটনা ও ৭৪৯টি ধর্ষণের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অর্ধেকের বয়সই ছিল ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ শিশু। বছরজুড়ে ১ হাজার ২৩ শিশু নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী (তিন মাস আগে মাস্টার্স শেষ করেছেন) ও বর্তমানে ছাত্র ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী। তিনি ৪ জানুয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন পেয়েছেন। তবে মব সৃষ্টি করে নারী হেনস্তার এ ঘটনা প্রমাণ করে, আমরা যে চিন্তা নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান করেছিলাম, একটি উগ্র গোষ্ঠী সেই চিন্তা ধারণ করে না। মব সৃষ্টি করে তারা মুক্তমনা নারীদের আক্রমণ করতে চায়।’
লালমাটিয়ার ঘটনার চার দিন পর ৫ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ওড়না পরা’ নিয়ে এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে মোস্তফা আসিফ অর্ণব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সহকারী বাইন্ডার ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পরপরই ওই ব্যক্তির পক্ষে এবং ভুক্তভোগী মেয়েটির বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী তৎপর হয়ে ওঠে। পরদিন জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ফুলের মালা দিয়ে ও পাগড়ি পরিয়ে বরণ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে থানায় ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী সীমা আক্তার। তিনি ৪ জানুয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, মব এখন একটা আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘শাহবাগি’, ‘নারীবাদী’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ উল্লেখ করে মেয়েদের হেনস্তা করা হচ্ছে।
গত বছরের মে মাসে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে দুই তরুণীকে একদল লোকের সামনে বেল্ট দিয়ে পেটান নেহাল আহমেদ নামের এক তরুণ (২৪)। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ১০ মে নেহালকে আটক করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা–পুলিশ।
এ বছরের ৩ জানুয়ারি অভিযুক্ত নেহাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি থানায় গিয়ে আত্মসমপর্ণ করেন ও পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।
কেন পিটিয়েছিলেন জানতে চাইলে নেহাল দাবি করেন, ‘কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে মেয়ে দুটোকে “খারাপ মেয়ে” উল্লেখ করে লঞ্চ থেকে টেনে নিচে নামিয়ে নিতে চেয়েছিল। মবের ভয়ে ওই মেয়েদের বাঁচানোর জন্যই মেরেছিলাম।’
বছরের শেষ ভাগে ১২ নভেম্বর ময়মনসিংহে বিরোধের জেরে এক নৃত্যশিল্পীকে মারধর করে, চুল কেটে ও মুখে কালি মাখিয়ে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ওই নারী কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনা সম্পর্কে জানতে ভুক্তভোগী নৃত্যশিল্পীর মুঠোফোনে কল করলে তিনি সাড়া দেননি।
বছরের শুরুতে ২৯ জানুয়ারি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর উচ্চবিদ্যালয়ে নারীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ নিয়ে আপত্তি তুলে একদল ব্যক্তি মাঠ ঘেরাও করা টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল করতে হয় আয়োজকদের। পরে ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঢাকা থেকে নারী দল এনে ওই মাঠেই আবারও খেলার আয়োজন করা হয়। তার এক দিন পরই ৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় জয়পুরহাট নারী দল ও রাজশাহী নারী দলের মধ্যকার খেলা বিক্ষোভ মিছিলের হুমকির মুখে বাতিল হয়ে যায়।
‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৫: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মব সন্ত্রাসে নারীদের শিকার হওয়ার কথা তুলে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে অন্তত তিনজন নারীর গণপিটুনির শিকার হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীরা বর্তমানে এক বিস্তৃত নিরাপত্তাহীনতার আবহে জীবনযাপন করছেন। নারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানো, তাঁদের পোশাক বা আচরণ নিয়ে নৈতিকতা নির্ধারণের চেষ্টা ‘মোরাল পুলিশিং’–এর নামে দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।
সমতল থেকে পাহাড়—ধর্ষণ, সহিংসতা থেমে নেই
গত বছর নারী ও শিশু নির্যাতনের মধ্যে সমতল ও পাহাড়ের দুটি ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল। ৫ মার্চ ধর্ষণের পর গলায় ফাঁস দিয়ে মাগুরার শিশুটিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। বোনের শ্বশুরকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ১৩ মার্চ শিশুটি মারা যায়। ৮ বছরের এই শিশুর পরিচয় গড়ে উঠেছিল ‘মাগুরার শিশু’ নামে। ওই ঘটনার পর ধর্ষণের বিচারে উল্লেখযোগ্য সংশোধন এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়।
সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিন পাহাড়ি নিহত হন। এর আগে মে মাসে খাগড়াছড়ির থানচি উপজেলার ২৯ বছর বয়সী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়; তাঁর চোখ উপড়ে ফেলা হয়।
২৭ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসে এক তরুণী বাস কন্ডাক্টরের অশালীন মন্তব্য ও হামলার শিকার হন। এখনো এই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ওই তরুণী।
এ ছাড়া ২৬ জুন রাতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় এক বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীকে মারধর ও বিবস্ত্র করে ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত (ডিসেম্বরে মামলার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি) ১১ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে ২০ হাজার ৬৯১টি। এর আগের বছর মামলা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৭১টি।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পারিবারিক সহিংসতার ৫৬০টি ঘটনা ও ৭৪৯টি ধর্ষণের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অর্ধেকের বয়সই ছিল ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ শিশু। বছরজুড়ে ১ হাজার ২৩ শিশু নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়।
নিরাপত্তাহীনতার বিস্তৃত আবহ
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সার্বিকভাবে নারীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বোধ কতটা বাড়িয়ে তুলেছে, তা উঠে এসেছে গত নভেম্বরে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ‘উইমেন ম্যানিফেস্টো (নারী ইশতেহার)’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনে।
এই গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ৬৬ শতাংশের বেশি গণপরিবহনে, ডিজিটাল জগৎ ও পারিবারিক বৃত্তে ঘটা সহিংসতাকে গুরুতর সমস্যা বলে মনে করেছেন।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ওই বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক, অধ্যাপক সৈয়দ মো. শাইখ ইমতিয়াজ ও সহযোগী অধ্যাপক ইশরাত জাহান খান।
অধ্যাপক সৈয়দ মো. শাইখ ইমতিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মব সংস্কৃতি ও নারীর ওপর আঘাত বেড়েছে। নারীরা যদি ভয়ের মধ্যে থাকেন, তবে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। জরিপে উঠে এসেছে—নারীরা চান, পুরুষদের জেন্ডার সংবেদনশীলতা গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে সমস্যার সমাধান সহজ হবে।