ঢাকার ৫ তেলের পাম্পে আজ ভিন্ন চিত্র

রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে তেলের লাইন ফাঁকা। আজ মঙ্গলবার সকালেছবি: নোমান ছিদ্দিক

রাজধানীর পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে জ্বালানি তেলের জন্য কোথাও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়নি। কোথাও ২টি, কোথাও ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন লাইনে জ্বালানি তেলের অপেক্ষায় ছিল। অল্প সময় অপেক্ষার পরই তেল পেয়েছেন গ্রাহকেরা। পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক বলছেন তাঁরা। তবে তেল সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি আছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পরে কিছুদিন আগপর্যন্ত রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছিল লম্বা লাইন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের অপেক্ষা। তবে আজ ভিন্ন চিত্র দেখা গেল।

মৎস্যভবনে রমনা ফিলিং স্টেশন ফাঁকা। আজ মঙ্গলবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শহীদবাগ, আরামবাগ, মৎস্য ভবন, মতিঝিল এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে এ রকম অবস্থা দেখা গেছে।

সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে শহীদবাগে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দুটি মোটরসাইকেলের চালক জ্বালানি তেল নিচ্ছেন। তেলের জন্য লাইনে আর কোনো মোটরসাইকেল নেই। কয়েক দিন আগেও এই ফিলিং স্টেশনে সকালের এই সময়ে তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লম্বা লাইন ছিল। আজ দেখা গেছে, তিন থেকে চারটি প্রাইভেট কার তেল নিচ্ছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আরামবাগে মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫টি প্রাইভেট কার লাইনে দাঁড়ানো। মোটরসাইকেলের লাইন খালি। এই ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা প্রাইভেট কারের চালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখনো পাম্পে তেল আসেনি। বলছে অল্প কিছুক্ষণের ভেতরে তেল আসবে। তেল আসলেই পেয়ে যাব।’

মতিঝিলের ফিলিং স্টেশনেও ভিড় নেই। আজ মঙ্গলবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

এই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মো. রাজু প্রথম আলোকে জানান, এখনো তেল আসেনি। তেলের জন্য কয়েকটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। তেল আসলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই লাইন শেষ হয়ে যাবে।

দুপুর ১২টার দিকে মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। এই ফিলিং স্টেশনে এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার মিলিয়ে হাজারের ওপরে গাড়ি তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল। আজকে লাইনে কোনো গাড়ি নেই। মাঝেমধ্যে দু–একটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার এসে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে।

মতিঝিলে ফিলিং স্টেশনে লাইনে প্রাইভেট কার কম। আজ মঙ্গলবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

এই ফিলিং স্টেশনের মালিক আবদুস সালাম বলেন, ‘এখন আর আগের মতো লম্বা লাইন নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তবে আমরা আগের তুলনায় ডিজেল একটু কম পাচ্ছি। আপাতত অকটেন নিয়ে তেমন ঝামেলা নেই।’

বেলা ১টার দিকে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে রমনা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, এখানেও তেলের জন্য কোনো লাইন নেই। একটু পরপর মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার এসে লাইন ছাড়াই তেল নিয়ে যাচ্ছে।

আরামবাগে এইচ কে ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে লাইন দেখা যায়নি। আজ মঙ্গলবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করা চালক মো. স্বপন বলেন, ‘এখন ভোগান্তি না থাকলেও দামটা একটু বেশি। দামটা একটু কমালে আমাদের জন্য ভালো হতো। মানুষ তো ভাড়া আগের তুলনায় বেশি দেয় না।’