তিতাসের পাইপলাইনে আবার দুর্ঘটনা, কোন কোন এলাকায় বাড়ল ভোগান্তি

গ্যাস না থাকায় বিকল্প উপায়ে রান্না করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ২টার দিকে রাজধানীর পূর্ব দোলাইরপাড় এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

দুই সপ্তাহ ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ‍্যাসের (এলপিজি) সংকট রাজধানীতে। এর মধ্যে আমিনবাজারে পাইপলাইন ছিদ্র হওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে কম চাপে গ‍্যাস পাচ্ছে ঢাকাবাসী। আছে ভোগান্তিতে। এর মধ্যে আজ শনিবার আবার নতুন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে গ‍্যাসের চাপ আরও বেশি কমেছে।

ঢাকা ও আশপাশের শহরে গ‍্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ‍্যাস ট্রান্সমিশন অ‍্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। তিতাস থেকে আজ পাঠানো বিজ্ঞপ্তি বলছে, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভাল্‌ভ ফেটে ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এটি মেরামতের জন্য বেশ কয়েকটি ভাল্‌ভ বন্ধ করায় বিতরণ লাইনে গ‍্যাসের চাপ কমে গেছে।

ভাল্‌ভ দিয়ে পাইপলাইন গ‍্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনে বাড়ানো বা কমানো যায়। এটি বিতরণ লাইনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট পয়েন্টে থাকে।

গণভবনের সামনে গ্যাসের পাইপের ভালভ ফেটে লিকেজ দেখা দেয়ার কারণে ধানমন্ডি, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর এলাকায় দেখা দিয়েছে গ্যাসের স্বল্পতা। সারাতে কাজ করছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গণভবনের সামনে। আজ দুপুর ১২টার দিকে
ছবি: প্রথম আলো

তিতাসের বিজ্ঞপ্তি বলছে, বিতরণ লাইনে চাপ সীমিত করায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ রয়েছে। ভাল্‌ভ বদলের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে তিতাস। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।

আমিনবাজারে পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা হলেও পাইপলাইনের পানি পুরোপুরি পরিষ্কার করা যায়নি বলে জানিয়েছে তিতাস। এতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে। এর মধ্যে নতুন দুর্ঘটনায় গ্যাস সরবরাহ কমেছে।

আমিনবাজারে দুর্ঘটনাটি ঘটে ৪ জানুয়ারি। তিতাস গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় চুলাই জ্বলছে না। ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। তবে মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন

ঢাকায় রান্নার জ্বালানির উৎস মূলত দুটি—তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), যা সাধারণত সিলিন্ডারে বিক্রি করা হয়। সংকট চলছে দুই ক্ষেত্রেই। আমদানি কম হওয়ায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ কমে গেছে। মানুষ দোকানে দোকানে ঘুরে গ্যাস পাচ্ছে না। পেলেও ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়।

দুই ধরনের গ্যাস–সংকট একসঙ্গে শুরু হওয়ায় অনেক জায়গায় মানুষ রান্না করতে পারছেন না। যাঁরা সচ্ছল, তাঁরা বৈদ্যুতিক চুলা কিনে নিচ্ছেন। কেউ কেউ রাইস কুকারে ভাত রান্না করে তরকারি রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনছেন। তবে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাঁদের পক্ষে বৈদ্যুতিক চুলা অথবা রাইস কুকার কেনা কঠিন।

তিতাসের গ্যাসের চাপ কম থাকা এলাকার মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, জিগাতলা, খিলগাঁও, বাড্ডা, নাখালপাড়া ইত্যাদি।

আরও পড়ুন