‘ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ঠাস ঠাস আওয়াজ শুনি। বাচ্চারা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। উঠে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, খালের ওপারের বাড়িতে গুলি হচ্ছে। জানালার গ্লাসগুলো ভাঙা। সন্ত্রাসীরা চলে যাচ্ছে।’
চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলির বর্ণনা এভাবেই দিচ্ছিলেন পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা হযরত মুয়াজ বিন জবলের শিক্ষক হাফেজ মো. রেজাউল কবির। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকতা করা এই ব্যক্তি বললেন, ‘আমি এই এলাকায় আগে কখনো এমন ঘটনা দেখিনি, শুনিওনি।’
চার সন্ত্রাসী পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান হাতে এসে যখন চন্দনপুরার এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি করে, তখন সেখানে পুলিশের পাহারা ছিল। চাঁদার টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা এসে প্রকাশ্যে গুলি করে নির্বিঘ্নে চলে যায়। অথচ পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ তৈরি করতে পারেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এ ঘটনা নিয়ে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত ২ জানুয়ারিও তাঁর বাসায় গুলি করা হয়। ওই ঘটনার পর বাসার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং একটি মামলাও হয়। এরপরও চাঁদা না পেয়ে ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দেন সাজ্জাদ। এতে লেখা হয়, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।
চট্টগ্রাম শহরের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটা চিত্র উঠে এসেছে এ ঘটনার মাধ্যমে। যেখানে পুলিশ পাহারা আছে, সিসি ক্যামেরা আছে, মামলা আছে—তবু সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে এসে গুলি করে অস্ত্র উঁচিয়ে চলে যেতে পারে। একই ধারা দেখা গেছে নগরের বায়েজিদ, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, খুলশী, হাটহাজারী–সংলগ্ন এলাকা, এমনকি পতেঙ্গা সৈকতের মতো জনসমাগমপূর্ণ জায়গায়ও।
এরপরও চাঁদা না পেয়ে ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দেন সাজ্জাদ। এতে লেখা হয়, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।
চন্দনপুরার ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মতো এখন চট্টগ্রাম শহরে আটটি আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ বা অপরাধী চক্র সক্রিয় আছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। আলোচিত অন্য সন্ত্রাসীরা হলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন, মোহাম্মদ রায়হান, শহীদুল ইসলাম (বুইস্যা বাহিনীর প্রধান), বার্মা সাইফুল এবং বাকলিয়াকেন্দ্রিক মোরশেদ খান গ্রুপ ও আবদুস সোবহান-শওকত গ্রুপ।
তাঁদের বাইরে মুরাদপুর-পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় আছে। আলোচিত সন্ত্রাসীদের বাইরে পুলিশের তালিকায় ছোট–বড় তিন শতাধিক সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত মে পর্যন্ত অন্তত ১২৫টি খুনের মামলা হয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে খুন হন ২৫ জন।
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো বেপরোয়া হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে ওঠে।আখতার কবির চৌধুরী, সভাপতি, সুজন, চট্টগ্রাম মহানগর
এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩৫টি আলোচিত খুনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখে প্রথম আলো। এর মধ্যে ২২ জনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া গুলি করে আহত করা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অনেক ঘটনা রয়েছে। গুলি করার ঘটনায় ঘুরেফিরে অন্তত ১৩ জন শুটার, অস্ত্রধারী বা হামলার মাঠপর্যায়ের সংগঠকের নাম আসছে। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ বোরহান, মেহেদী হাসান, খোরশেদ আলম, মোবারক ওরফে কালা মোবারক, আবদুল কাদের, মোহাম্মদ ওরফে ভাতিজা মোহাম্মদ, বুইস্যার সহযোগী মুন্না, বার্মা সবুজ অন্যতম। যদিও চট্টগ্রামজুড়ে বিভিন্নভাবে সক্রিয় আছেন শতাধিক শুটার।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সন্ত্রাসীদের কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ অস্বস্তিতে রয়েছেন। তাদের কঠোর হাতে দমন করা উচিত।
আলোচিত অন্য সন্ত্রাসীরা হলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন, মোহাম্মদ রায়হান, শহীদুল ইসলাম (বুইস্যা বাহিনীর প্রধান), বার্মা সাইফুল এবং বাকলিয়াকেন্দ্রিক মোরশেদ খান গ্রুপ ও আবদুস সোবহান-শওকত গ্রুপ।
কথায় কথায় গুলি করে সন্ত্রাসীরা
চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের অপরাধজগৎ কয়েকটি সন্ত্রাসী চক্রে ভাগ হয়ে গেছে। কেউ বিদেশ থেকে নির্দেশ দেয়, কেউ শহরে এসে গুলি করে সটকে পড়ে বা পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেয়। কেউ আবার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন, ঝুট ব্যবসা, গ্যারেজ, বালুমহাল, ফুটপাত ও মাদক থেকে টাকা তোলে। আর সন্ত্রাসীদের এসব কাজের যেখানেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, সেখানেই গুলি করে, ত্রাস সৃষ্টি করে। সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া আচরণে আতঙ্কিত হয়ে বেশির ভাগ ভুক্তভোগীই থানা-পুলিশ পর্যন্ত যায় না বা সাহস পায় না।
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বাড়িতে ১৫ থেকে ২০টি গুলি হওয়ার পরও ভয়ে মামলা করেননি বালুছড়া উত্তর কুলগাঁও এলাকায় থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আহমদ রেজা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম শহরে ৪০টির বেশি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অক্সিজেন, বালুচরা, হামজারবাগ, চন্দনপুরা, চান্দগাঁও, বাদুরতলা, খুলশী, বার্মা কলোনি, বাকলিয়া, কালুরঘাট এলাকায় বেশি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
কেউ বিদেশ থেকে নির্দেশ দেয়, কেউ শহরে এসে গুলি করে সটকে পড়ে বা পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেয়। কেউ আবার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন, ঝুট ব্যবসা, গ্যারেজ, বালুমহাল, ফুটপাত ও মাদক থেকে টাকা তোলে। আর সন্ত্রাসীদের এসব কাজের যেখানেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, সেখানেই গুলি করে, ত্রাস সৃষ্টি করে।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বায়েজিদের কালারপুল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ফটকের সামনে টমটম থেকে নামে তিন অস্ত্রধারী। মুখে মাস্ক। একজনের হাতে শটগান। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর দিকে অস্ত্র তাক করে মালিকদের খুঁজতে থাকে তারা। পরে গুলি ছোড়ে। অভিযোগ, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে ৬৮টি।
অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, ১৪ জুলাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এর আগের দিন নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হামলা চালিয়ে ৩৫ লাখ টাকা লুট করে। এরও দুই দিন আগে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ফোনে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ডেভিড ইমন অবশ্য ২৯ জুলাই যশোরে গ্রেপ্তার হন।
ইতিমধ্যে অস্ত্রসহ বেশ কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বলছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধজগৎ ও অস্ত্রেরও হাতবদল হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যারা পালিয়েছে, তাদের অস্ত্রগুলো এখনকার অনেক সন্ত্রাসীর হাতে চলে গেছে। মিয়ানমার সীমান্ত হয়েও অস্ত্রের চালান চট্টগ্রামে ঢুকছে। এ ছাড়া পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও চট্টগ্রামের অপরাধীদের যোগসাজশের তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।
অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্রসহ বেশ কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
দরজায় সাত লাল দাগ, ফোনে হুমকি
নগরের বাকলিয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাসার দরজায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে লাল রঙের সাতটি দাগ এঁকে দিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে ফোন করে তাঁকে বলা হয়, ‘বাসায় বউ-বাচ্চারে চাইলে শেষ করে দিতে পারতাম। দাগগুলো দেখো, বাকিটা বুঝে নাও।’ এরপর ওই ব্যবসায়ী পাঁচ লাখ টাকা দেন। তবে ভয়ে তিনি কোনো মামলা করেননি। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হননি।
নগর ও জেলার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এমন ঘটনা অনেক। হুমকির পর ভুক্তভোগীরা টাকা দিয়ে দেন, কিন্তু মামলা করেন না। তাঁদের ভাষ্য, সন্ত্রাসীদের কাজই হলো ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা। কোথাও গুলি করে, কোথাও দরজায় দাগ দিয়ে, কোথাও শুধু ফোন করে—কিন্তু লক্ষ্য একই, ভুক্তভোগীকে টাকা দিতে বাধ্য করা।
নগরের বাকলিয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাসার দরজায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে লাল রঙের সাতটি দাগ এঁকে দিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে ফোন করে তাঁকে বলা হয়, ‘বাসায় বউ-বাচ্চারে চাইলে শেষ করে দিতে পারতাম। দাগগুলো দেখো, বাকিটা বুঝে নাও।’
সাজ্জাদের তিন স্তরের বাহিনী
চট্টগ্রামের অপরাধজগতের সবচেয়ে আলোচিত নাম সাজ্জাদ আলী। ২০০০ সালে বহদ্দারহাটে ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীসহ আটজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার হন সাজ্জাদ। জামিনে বেরিয়ে ২০০৪ সালে দেশ ছাড়েন। এর পর থেকে বিদেশে বসেই তিনি বিস্তৃত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
প্রথম আলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরের যে ৩৫টি গুলি ও খুনের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করেছে, তার মধ্যে অন্তত ১৫টিতে সাজ্জাদ বাহিনী জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের হিসাবে বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে এখন অন্তত ৫০ জন শুটার সক্রিয় আছেন।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, নগরে মূলত সাজ্জাদের দলই বড় ধরনের অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি ও খুনে জড়িত। অন্যগুলো ছোটখাটো হলেও এলাকাভিত্তিক আতঙ্ক তৈরি করছে। সাজ্জাদের হয়ে দেশে তাঁর বাহিনী পরিচালনা করতেন ছোট সাজ্জাদ নামের আরেক দুধর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে বের হয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ছোট সাজ্জাদ গত ১৫ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হন।
প্রথম আলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরের যে ৩৫টি গুলি ও খুনের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করেছে, তার মধ্যে অন্তত ১৫টিতে সাজ্জাদ বাহিনী জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের হিসাবে বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে এখন অন্তত ৫০ জন শুটার সক্রিয় আছেন।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সহযোগীরা বেশির ভাগ চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও খুনের ঘটনায় জড়িত। এর বাইরে কিছু চক্র ফুটপাত, সড়ক, পরিবহনে চাঁদাবাজি করে। এদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কিছু সদস্যও সন্ত্রাসী চক্রের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেন বলে অভিযোগ আছে। ফলে সন্ত্রাসীরা ভেতরের অনেক তথ্য জেনে যায়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এ বছরও নানা কারণে ২০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেও আমরা ব্যবস্থা নেব।’
দলে নিতে শপথ ও সাক্ষাৎকার
পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশের বাইরে থাকা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ নানা কৌশলে এখন তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীতে সদস্য নিয়োগ দিচ্ছেন। প্রচুর টাকা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ায় নিম্ন আয়ের ছিন্নমূল মানুষ ও অনেক মাদকাসক্ত ব্যক্তি এখন সাজ্জাদের দলে নেওয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসী দলের সব সদস্যও একে অপরের সম্পর্কে জানে না।
সন্ত্রাসী বাহিনীতে সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় গ্রন্থ ছুঁইয়ে শপথ পড়ানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে হচ্ছে বাহিনী প্রধানের কাছে। এরপর বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ দেওয়া হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বাহিনীর সদস্য করা হয়। ১৩ মার্চ বড় সাজ্জাদের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলে এ সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। গ্রেপ্তার কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির ও সায়েমের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি একটি ভিডিও ক্লিপ পায় পুলিশ।
ওই ভিডিওর বিষয়ে ৫ জুলাই সিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিও মূলত রিমনের কাছ ছিল। সেখানে দেখা যায়, নতুন সদস্যরা ধর্মগ্রন্থ হাতে নিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিচ্ছেন।
লক্ষ্যবস্তু ঠিক করতে অর্ধশতাধিক ‘সোর্স’
চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির অর্থনীতি কতটা সংগঠিত, তা বোঝা যায় সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মুঠোফোনে পাওয়া ভিডিও থেকে। বায়েজিদ বোস্তামীর নয়াহাট এলাকায় নির্মাণাধীন কয়েকটি ভবনের ভিডিও ধারণ করতে করতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেক ভবন এখানে। ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা খাওয়া যাবে। গুলি করতে হবে, যারা গাদ্দারি করে।’
৫ মার্চ নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর নয়াহাট এলাকা থেকে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পুলিশ জানায়, সাইদুল বড় সাজ্জাদের কাছে পাঠানোর জন্য ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। তাঁর কাজ ছিল নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নির্মাণাধীন ভবনের ভিডিও করা, মালিকের পরিচয় জানা, কোন ভবন থেকে কত টাকা চাঁদা আদায় করা যাবে—সে তথ্য পাঠানো। এর বিনিময়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকা পেতেন।
পুলিশের ভাষ্য, সাইদুলের মতো অর্ধশতাধিক সোর্স আছে সাজ্জাদের। তাঁরা বায়েজিদ, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, হাটহাজারী, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের তথ্য সরবরাহ করেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার সাইদুল নির্মাণাধীন ভবনের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি কোন ভবন থেকে কত টাকা চাঁদা আদায় করা যাবে, মালিকের পরিচয়, চাঁদা না দিলে কী করণীয়, সে বিষয়ে সন্ত্রাসীদের ধারণা দিতেন।
ফেসবুকে কটূক্তি, হুমকি, হত্যা
চট্টগ্রামের অপরাধজগতে ফেসবুকও এখন অস্ত্রের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। ঢাকাইয়া আকবর নামে পরিচিত আকবর আলী ছিলেন বায়েজিদ এলাকার সন্ত্রাসী। হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির ১০টি মামলার আসামি আকবর একসময় বড় সাজ্জাদের দলে ছিলেন। পরে নিজে আলাদা বাহিনী গড়েন।
আকবর নিজের ফেসবুকে ছোট সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী তামান্না শারমিনকে নিয়ে কটূক্তি করে ভিডিও দিতেন। পাল্টা ভিডিওতে আকবরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেন তামান্না। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় আকবরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
খুন করেন শহরে, থাকেন পাহাড়ে
আকবরকে হত্যার ঘটনায় নাম আসে মোহাম্মদ রায়হান নামের আরেক সন্ত্রাসীর। সাম্প্রতিক বিভিন্ন খুনের ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত এই রায়হান। তাঁর বাড়ি রাউজানে।
বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালে ছোট সাজ্জাদের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন রায়হান। এরপর চট্টগ্রামের অপরাধজগতে তাঁর উত্থান হতে থাকে। রাউজান, বাকলিয়া, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার খুনের ঘটনায় তাঁর নাম আসতে থাকে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাকলিয়ায় জোড়া খুন, রাউজানে যুবদল কর্মী ইব্রাহীম হত্যা, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত ১৩ মামলায় রায়হানের নাম এসেছে।
রায়হান রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় থাকেন। শহরে এসে ঘটনা ঘটিয়ে আবার পাহাড়ি আস্তানায় চলে যান বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বুইস্যার টাকা গোনার মেশিন ও টর্চার সেল
চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশের আতঙ্ক শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা। চুরি, ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অপরাধে হাতেখড়ি হওয়া বুইস্যা কিশোর গ্যাং থেকে বড় সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। অন্তত ২০টি মামলা আছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বুইস্যার বাহিনী গ্যারেজ, ছোট ব্যবসা, মাদক, কিশোর গ্যাং ও স্থানীয় চাঁদাবাজির ওপর নির্ভর করে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হন বুইস্যা। চান্দগাঁওয়ের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার একটি ভবনে বুইস্যার ‘টর্চার সেল’ খুঁজে পায় পুলিশ। তবে তাঁর বাহিনীতে থাকা ৩০ জনের মতো সদস্য এখনো নানাভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সক্রিয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুইস্যার বাহিনীর সঙ্গে জামিনে থাকা সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পোর লোকদের মাঝেমধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়।
গত বছরের ৪ অক্টোবর বুইস্যার সহযোগী মুন্না পাঁচলাইশ বাদুরতলা এলাকায় একটি গ্যারেজের সামনে কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করছিলেন, সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
পুলিশের হিসাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম ১৭ মাসেই চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে ১৫টি। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, প্রকৃত ঘটনা আরও বেশি। ভয়ে অনেকে মামলা করতে যাননি।
২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার পাশে একটি মোটর গ্যারেজে চাঁদা না পেয়ে গুলি করেন বুইস্যা। পরে গত বছরের ১০ অক্টোবর বুইস্যার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন তাঁদের কাছ থেকে মাদক ও অস্ত্রের পাশাপাশি টাকা গণনার মেশিন উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে চাঁদা ও মাদকের টাকা গণনা করা হতো বলে জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির।
এর আগে গত বছরের ২১ জুলাই বুইস্যার ১১ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন নগরের চান্দগাঁও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার একটি ভবনে বুইস্যা বাহিনীর টর্চার সেলের সন্ধান পায় পুলিশ।
পুলিশের হিসাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম ১৭ মাসেই চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে ১৫টি। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, প্রকৃত ঘটনা আরও বেশি। ভয়ে অনেকে মামলা করতে যাননি।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে নগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দিনদুপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা, লুটপাট, অস্ত্রবাজি চলছে। সরকার কিছুই করতে পারছে না।
তাঁরাও এখন বড় সন্ত্রাসী
সাজ্জাদ বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডে ঘুরেফিরে আসছে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন, মোহাম্মদ বোরহান ও মেহেদী হাসানের নাম। তাঁরা এখন চট্টগ্রামের বড় সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের কেউ অস্ত্র চালনায় দক্ষ, কেউ হামলার জন্য মোটরসাইকেল ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী জোগাড় করেন, কেউ আবার নির্মাণাধীন ভবন ও কারখানা থেকে চাঁদা আদায়ের কাজ দেখতেন।
ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের বাসিন্দা ইমন ছোট সাজ্জাদের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। ইমনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, অস্ত্র চালনায় তিনি পারদর্শী। তাঁর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বহনের ছবি পুলিশের হাতে রয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে।
মোহাম্মদ বোরহান ছিলেন চাঁদাবাজির মাঠপর্যায়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম। নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা বোরহানের বিরুদ্ধে জোড়া খুন, ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ আটটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, নির্মাণাধীন ভবন ও কারখানা থেকে চাঁদা আদায় করতেন তিনি। চাঁদা না দিলে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো, গুলি করা ও শ্রমিকদের মারধর করতেন তাঁর সহযোগীরা।
বাকলিয়া জোড়া খুনের পরিকল্পনায় উঠে এসেছে মেহেদী হাসানের নামও। ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মেহেদীকে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজির ১৩টি মামলা রয়েছে।
বাকলিয়ায় গুরু-শিষ্যের লড়াই
বাকলিয়ায় অপরাধের ধরন কিছুটা আলাদা। ২০০৩ সালে ‘ক্রসফায়ারের’ ভয়ে এলাকা ছাড়া হন বাকলিয়া থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সন্ত্রাসী মোরশেদ খান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার এলাকায় ফেরেন যাবজ্জীন সাজা পাওয়া এই ব্যক্তি। কিন্তু তত দিনে তাঁর একসময়ের শিষ্য আবদুস সোবহান আলাদা বাহিনী গড়ে তোলেন।
পুলিশের ভাষ্য, এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মোরশেদের অনুসারীরা সোবহান ও শওকতের অনুসারীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় গুলিতে পথচারী, অটোরিকশাচালক ও কারখানার শ্রমিক আহত হন। পরে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করে।
এর বাইরে নগরের বায়েজিদ, খুলশী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদকসহ নানা অপরাধে সাইফুল আলম ওরফে বার্মা সাইফুলের বাহিনীর আধিপত্য রয়েছে। নগর ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক সাইফুলকে ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। সাইফুলের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কাজ করা র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খুন ও গোলাগুলির অধিকাংশ ঘটনাই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। আর চাঁদাবাজি বা অবৈধ অর্থের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা ঘটছে। সন্ত্রাসের অন্যতম বড় কারণ মাদকের বিস্তার বলেও মনে করেন এই কর্মকর্তা।
সন্ত্রাস টেকে ছায়া থাকলেই
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চাঁদাবাজি, মাদক ও দখল থেকেই সন্ত্রাসীদের অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সন্ত্রাসের এই চক্র ভাঙা কঠিন। সন্ত্রাসী দলের কিছু সদস্য গ্রেপ্তার হলেও পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান শুটারদের অনেকে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আখতার কবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো বেপরোয়া হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিতে হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে অপরাধী হিসেবেই ধরতে হবে। তা না হলে গুলি, চাঁদাবাজি ও ভয় দেখিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণের এই চক্র ভাঙবে না।