এরপর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম সাক্ষীদের জবানবন্দি, অভিযোগ পড়ে শোনান। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থন কিংবা অভিযোগের সপক্ষে কোনো কাগজপত্র ও সাফাই সাক্ষ্য দেবেন কি না, জানতে চাইলে ১৫ আসামির মধ্যে ৮ জন আসামি লিখিতভাবে তাঁদের বক্তব্য আদালতে উপস্থাপনের কথা বলেন।

আটজন আসামি আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিতভাবে সাফাই সাক্ষ্য দেবেন বলে জানিয়েছেন আদালতকে। আদালত নবম দফার বিচারকাজের জন্য ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর তিন দিন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এই আট সাক্ষী হলেন শাহজাহান আলী, সাফানুল করিম, কামাল হোসাইন, আবদুল্লাহ আল মামুন, নন্দদুলাল রক্ষিত, লিটন মিয়া, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও মো. রাজিব।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত সাফাই সাক্ষ্যের জন্য নবম দফায় ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে ৮ দফায় ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। এ মামলার মোট সাক্ষী ৮৩ জন।

জেরার সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ জন আসামি। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে ১৫ আসামিকে আদালতে আনা হয়।

আইনজীবীরা বলেন, প্রথম দফায় গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে এ মামলার সাক্ষ্য দেন দুজন। তাঁরা হলেন মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে গাড়িতে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাত। দ্বিতীয় দফার ৪ দিনে সাক্ষ্য দেন ৪ জন, তৃতীয় দফার ৩ দিনে ৮ জন, চতুর্থ দফার ২ দিনে ৬ জন, পঞ্চম দফার ৩ দিনে ১৫ জন, ষষ্ঠ দফায় ৩ দিনে ২৪ জন, সপ্তম দফার ৩ দিনে ৫ জন এবং অষ্টম দফার ৩ দিনে ১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন