কোথায় যাবে খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির, অপেক্ষা এই সিদ্ধান্তের

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। এর পর থেকে সেটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আছে। সম্প্রতি তোলাছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে আনা মাদি কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সাফারি পার্ক বা অন্য উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের প্রস্তাব বন বিভাগ গত মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

একই সঙ্গে দুটি কুমির চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে করা মাজার কর্তৃপক্ষের একটি আবেদনও গত সপ্তাহে বন বিভাগের হাতে এসেছে। গত বছরের আগস্টে আবেদনটি করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী মতামতের জন্য সেটিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল।

নির্মল কুমার পাল বলেন, কুমিরটি বর্তমানে সুস্থ আছে এবং খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে আছে। তবে এ ধরনের কেন্দ্রে কোনো বন্য প্রাণী দীর্ঘ মেয়াদে রাখা যায় না। তাই প্রাণীটিকে বৃহত্তর আবাসস্থলে স্থানান্তরের বিষয়ে ঢাকার বন সংরক্ষক, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলে গত মাসেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁর কথা, ‘কুমিরটিকে সাফারি পার্ক বা অন্য উপযুক্ত স্থানে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছি। সিদ্ধান্ত পেলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সর্বশেষ একটি কুমির টিকে ছিল
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

কুমিরটিকে আবার মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই বন কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসন বা মাজার কর্তৃপক্ষ বন বিভাগকে এ বিষয়ে নতুন করে কিছু জানায়নি। তবে কুমিরটি সরিয়ে আনার আগেই গত বছরের আগস্টে মাজার কর্তৃপক্ষ দুটি কুমির চেয়ে আবেদন করেছিল।

আরও পড়ুন

সেই আবেদন এত দিন পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগের হাতে এসেছে। তবে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের বন্য প্রাণী পালনের অনুমতি দেওয়া হয় না। বিষয়টি দেখভাল করে ঢাকার বন সার্কেল অফিস। তাই আবেদনটি সেখানে পাঠানো হয়েছে।

দিঘি থেকে সরিয়ে আনার পর প্রায় দুই মাস কুমিরটি কোনো খাবার খায়নি। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে বন বিভাগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দী অবস্থায় কুমির দীর্ঘদিন না খেলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং জোর করে খাওয়ানোরও দরকার নেই।

শুরুতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কুমিরটিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রাণীটি এখনো কিছু খায়নি। এ বিষয়ে নির্মল কুমার পাল বলেন, ‘ক্যাপটিভ (বন্দী) অবস্থায় কুমির অনেক সময় খাবার খায় না। দুই-চার মাস, এমনকি এক-দুই বছর পর্যন্তও না খেয়ে থাকতে পারে।’

১ জুন খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় ওই কুমির। ওই ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হলে জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। পরদিন রাতে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
পরে ৩ জুন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মাদি কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে যায়। এর পর থেকে প্রাণীটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আছে।

সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে যাওয়ার পর কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়
ফাইল ছবি: প্রথম আলো
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

বন বিভাগের তথ্য মতে, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি।

বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমির সংরক্ষণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ২০০০ সালে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মিঠাপানির কুমির বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার হয়েছে।