ছয় বছরে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে কী পরিমাণ সোনা-রুপা জমা হয়েছে

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা-রুপার ওজন নির্ধারণ করা হয়। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রমছবি: প্রথম আলো

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রায় ২৫ কেজি সোনা-রুপা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৭ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, সোনার ক্যারেট যাচাই ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ সময় ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালংকার (প্রায় ১২ দশমিক ১৮ কেজি) ও ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপার (প্রায় ১২ দশমিক ৬৯ কেজি) ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্বর্ণালংকার ও রুপার মোট ওজন প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ কেজি।

আরও পড়ুন

জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্স থেকে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সিলগালা অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। প্রথমে ট্রেজারিতে রাখা ৯টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ৬টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী আলাদা করা হয়।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে আছে ৮ হাজার ৫৭ মার্কিন ডলার, ৫৭ হাজার ৪১৪ সৌদি রিয়াল, ৩৭ হাজার ৮৭৭ ভারতীয় রুপি, ২৯ হাজার ৬৬২ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ১৪ হাজার ২৪০ আমিরাতের দিরহাম, ৭৬৭ কুয়েতি দিনার, ৮৮৮ ওমানি রিয়াল, ৭ হাজার ৯৭৩ কাতারি রিয়াল, ৩৩৩ বাহরাইনি দিনার, এক হাজার ৭১৮ সিঙ্গাপুর ডলার, এক হাজার ২২০ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো, ৫৫৫ অস্ট্রেলীয় ডলার, ২৫ কানাডীয় ডলার, ৯০০ মালদ্বীপের রুফিয়া ও ৩০৫ চীনা ইউয়ান। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ১৭ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে
ছবি: প্রথম আলো

জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

আরও পড়ুন

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা এতে সহযোগিতা করেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণালংকার ও রুপার ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপ করেন।

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়
ছবি: প্রথম আলো

ওজন নির্ধারণ ও গণনা শেষে এসব স্বর্ণালংকার ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন

এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও রুপা ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। তখন প্রায় ৩ বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করা হয়।