মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে হত্যার অভিযোগ: সাতজনের নামে হত্যা মামলার আবেদন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ‘প্রয়াস’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘প্রয়াস’-এ মো. ফোরকান মিয়া নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালককে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার নিহত ফোরকানের বাবা আবদুর রশিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন।

আরও পড়ুন
মামলার আবেদনে ‘প্রয়াস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. ইকরামুল হক ওরফে রুবেলকে (৪৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে ‘প্রয়াস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. ইকরামুল হক ওরফে রুবেলকে (৪৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে আছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক নরসিংদীর প্রমোদ কুমার বর্মন (৪৬), সহযোগী জেলা শহরের কান্দিপাড়ার রিয়াদ আহমদ ওরফে রকসি (২৫), সাথি (৩০), আরিফ (৩২), সাকিব (২৫) ও শাহরিয়ার (৩৩)।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল হাই বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা ও সাধারণ ডায়েরি হয়েছে কি না, তা যাচাইসহ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

আরও পড়ুন

মো. ফোরকান (২৯) জেলার নবীনগর উপজেলার কুড়িঘর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাতারপ্রবাসী ছিলেন। ছয় মাস আগে কাতার থেকে ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে ফেরার দুই মাস পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।

১৮ আগস্ট রাতে ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকদের বিরুদ্ধে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী মো. ফোরকানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন ১৯ আগস্ট দুপুরে এলাকার লোকজন সেখানে ভাঙচুর চালালে নিরাময় কেন্দ্রে থাকা ৪০ জন রোগী একসঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ২০ আগস্ট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার নিরাময় কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে অনিয়মের প্রমাণ পান। চিকিৎসক ছাড়াই চলছিল নিরাময় কেন্দ্রটি।