মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় টঙ্গীর তুরাগতীর ও আশপাশের এলাকায় ঢল নামে হাজারো মুসল্লির। জীবনের সব পাপ, গুনাহ থেকে মুক্তির আশায় মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে দু-হাত তুলে অনুনয়-বিনয় করছিলেন তাঁরা। বহু মানুষের অংশগ্রহণে ইহলোকের মঙ্গল, পরকালের ক্ষমা এবং দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মার ঐক্য ও বিশ্বশান্তি কামনা করা হয়।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় মোনাজাত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা শুরু হয় ১২টা ১৬ মিনিটে। শেষ হয় ১২টা ৪৬ মিনিটে। মোনাজাত করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। প্রায় ৩০ মিনিটের মোনাজাতে থমকে গিয়েছিল পুরো টঙ্গীর তুরাগতীর ও আশপাশের এলাকা। যে যেখানে ছিলেন, সেখানে থেকেই যোগ হন মোনাজাতে।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার শেষ দিনে আজ সকালে ভারতের মো. মুরসালীনের বয়ানের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেদায়েতি বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। বয়ান শেষে দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে তিনিই মোনাজাত শুরু করেন।

মোনাজাতে অংশ নিতে আজ সকাল থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন সাধারণ মুসল্লিরা। তাঁদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার। এর মধ্যে মোনাজাতের সময় মুসল্লিরা অবস্থান নেন ইজতেমার মাঠসংলগ্ন সড়ক-মহাসড়কে। মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগ। যান চলাচল বন্ধের কারণে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে জড়ো হন মুসল্লিরা।

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হলো। প্রথম পক্ষ বা বাংলাদেশি মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা ইজতেমা পালন করেন ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি। গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারীদের ইজতেমা। আজ আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো তাদের ইজতেমা।