খুলনায় টানা অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২, অন্য অপরাধীদের খোঁজ চলছে: পুলিশ

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। আজ সকালে নগরের খালিশপুরেছবি: প্রথম আলো

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত সময়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযানও চলছে।

আজ শনিবার কেএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা সদর থানা এলাকা থেকে ১৬ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা থেকে ১১ জন, লবণচরা থানা থেকে ১০ জন, খালিশপুর থানা থেকে ১৩ জনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি খুলনায় ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কেএমপি বিশেষ অভিযান শুরু করে। গত বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অপরাধবিষয়ক সভায় মহানগরজুড়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে আজ নগরের খালিশপুরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া লিটন মীর ওরফে কসাই লিটন ও রিফাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ, তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং অন্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে ‘বি কোম্পানি’ নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায় মানুষের সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা চালালেও এর আড়ালে চক্রটি সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, কসাই লিটন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’ নামে পরিচিত রনি চৌধুরীর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। গত ঈদেও তিনি ‘বি কোম্পানি’র ব্যানারে মাংস বিতরণ করেছেন।

আরও পড়ুন

আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও ডিজিটাল বিশ্লেষণে ‘বি কোম্পানি’র শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

ডিবির উপপুলিশ কমিশনার আরও বলেন, খুলনা মহানগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নগরবাসীর সহযোগিতায় তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনায় অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার সুযোগেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়েছে। এ নিয়ে আজ প্রথম আলোয় ‘তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন

প্রতিবেদনে বলা হয়, খুলনার সাম্প্রতিক অপরাধজগতে সবচেয়ে আলোচিত নাম গ্রেনেড বাবু। তাঁর আসল নাম রনি চৌধুরী ওরফে বাবু। তিনি সন্ত্রাসী গ্রুপটির নাম দিয়েছেন ‘বি কোম্পানি’। এখন তারা এতটাই বেপরোয়া যে জনবহুল এলাকায়ও খুনোখুনি করতে দ্বিধা করছে না।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কেএমপির দক্ষিণ বিভাগের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে একটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার এবং ১১টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন