সাহাপাড়ায় যে দুটি বাড়িতে হামলা হয়, এর একটি দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ সাহার। তাঁর ছোট ভাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক পলাশ সাহা বলেন, ভয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে এই পাড়ার বাসিন্দারা বাড়ি ছাড়তে থাকেন। দিবাগত রাত একটার পর ভয়ে অধিকাংশ বাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। যাঁরা রাতে বাড়িতে ছিলেন, তাঁদের ঘুম হয়নি। তাঁরা পরের দিন ভোরে বাড়ি ছাড়েন। এসব পরিবারের মানুষ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখানে ১০৮টি হিন্দু পরিবারের বসবাস।

পলাশ সাহা আজ বুধবার সকালে বলেন, সাহাপাড়ার সবাই বাড়ি ফিরেছেন। পুরুষেরা গত সোমবার বাড়ি ফেরেন। তাঁরা তাঁদের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অন্য সব কার্যক্রম শুরু করেছেন। নারীদের কেউ কেউ সোমবার ফিরেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার অন্যরা বাড়িতে ফিরেছেন। দিঘলিয়া বাজারে ৪৩৫টি দোকান। হামলার পরের দিন শনিবার কোনো দোকানপাট খোলা হয়নি। গত রোববার অর্ধেক দোকানপাট খোলে। সোমবার থেকে সব দোকান খুলেছে।

পলাশ সাহা বলেন, ‘সংসদ সদস্য মাশারাফি বিন মুর্তজা এসেছেন। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা প্রতিদিন আসছেন। পুলিশ-র‍্যাব দিনরাত পাহারা দিচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার আসছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও আশপাশের সামাজিক নেতারা পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এতে আমাদের নারী-পুরুষদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে।’

আজ সকালে ওই গ্রামে গেলে ষাটোর্ধ্ব রেখা রানী সাহা বলেন, ‘বেটার বউদের (পুত্রবধূ) বাড়িততে সরায় দিছিলাম। তারা বাড়ি আইছে। হ্যান্নে ভয় করতিছে না। প্রত্যেকদিন বড় বড় মানুষ, মেলা মানুষ আমাগের সব বাড়ি আসে অভয় দেচ্ছে।’ আরেক বাড়ির গৃহবধূ চায়না রানী সাহা (৪০) বলছিলেন, ‘হামলার রাতেই বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। গতকাল এসেছি। এখন পাড়ায় নানা মানুষে গমগম করছে, তাই ভয় নেই।’ সাহাপাড়ার বাসিন্দা স্বপ্না সাহা বলেন, ‘পুলিশ ও প্রশাসন খুব তৎপর রয়েছে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

দিঘলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী প্রদীপ স্বর্ণকার বলছিলেন, ‘আমরা এখানে হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে ঈদ-পূজা-পার্বণ করি। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এরপরও এমন কিছু ঘটবে বলে মনে হয় না।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চারটি মন্দিরের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ৫০০ খাবারের প্যাকেট ও ২০ বান্ডিল ঢেউটিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন