ঘুণে ধরা ঘরে অভাব নিত্যসঙ্গী, তিথির মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাসার সামনে তিথি সাহা। গতকাল বিকেলে তোলাছবি: প্রথম আলো

বাবা কালিদাস সাহা একটি কোম্পানির জুস, মসলা, জেলিসহ পণ্য ভ্যানে করে ডেলিভারি দেওয়ার কাজ করেন। মা মাধবী সাহা অবসরে ঠোঙা ও পাঁপড় বানিয়ে বিক্রি করেন। তাঁদের চারজনের অভাবে সংসারে সম্প্রতি আনন্দের খবর বয়ে আনে মেয়ে তিথি সাহা (১৯)। এবার মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে অভাবের তাড়নায় তাঁর ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তিথি সাহা যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। চলতি বছর তিনি নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আর্থিক অসংগতির কারণে তাঁর মেডিকেলে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি।

মঙ্গলবার বিকেলে তিথিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি টিন-ইটের ছাপরাঘরে তাঁদের পরিবারের বসবাস। ঘরটির একটি কক্ষে বোনের সঙ্গে থাকেন তিথি। পাশের কক্ষটিতে থাকতেন তাঁদের মা-বাবা। তবে কক্ষটির কাঠের বেড়া উইপোকার কবলে পড়ায় বিভিন্ন জায়গা খসে পড়ছে। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা বারান্দায় থাকেন।

তিথির মা মাধবী সাহা বলেন, তিথিকে এ পর্যন্ত আনতে তাঁদের বেশ কষ্ট হয়েছে; খেয়ে, না–খেয়েও দিন চলেছে। তখনো কোনো দিন ভেঙে পড়েননি। তবে এখন তিথির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

তিথির মা জানান, তাঁর স্বামী সকালে বের হয় আর রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফেরেন। সারা দিন সংসারের কাজ সামলে নিজেও বাড়তি কিছু উপার্জনের চেষ্টা করেন। তাঁদের আরেক মেয়ে এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

ছাপরাটির একটি অংশে কাঠের বেড়া দিয়ে তৈরি কক্ষ। সেটি উইপোকার কবলে পড়ায় বিভিন্ন জায়গা খসে পড়ছে
ছবি: প্রথম আলো

পরিবার ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, তিথি ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। তিনি পঞ্চম শ্রেণি থেকে বৃত্তি পেয়েছিলেন। পরে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পরে তিনি নীলফামারী মেডিকেল কলেজে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ১০-১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তির সময়। ভর্তির খরচ জোগাড় করতে পারছে না পরিবারটি।

তিথির মা মাধবী সাহা জানান, তিথির এসএসসির ফরম পূরণ করার সময় ২ হাজার ৩০০ টাকা লেগেছিল। বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে ধার নিয়ে সেই টাকা জমা দেন। তাঁকে মেডিকেল ভর্তির কোচিংয়ের জন্য সহায়তা করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। ওই শিক্ষকেরা একসময় তিথিকে বিনা মূল্যে পড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন

ওই শিক্ষকদের একজন দীনেশচন্দ্র দেবনাথ। তিনি শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। দীনেশ দেবনাথ বলেন, ‘তিথিরা হতদরিদ্র পরিবার। তিথি অত্যন্ত মেধাবী। তার নিজের চেষ্টায় এ পর্যন্ত এসেছে।’

কেশবপুর পাইলট সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তালেব জানান, ‘তিথি খুবই বিনয়ী। লেখাপড়ায় একাগ্রতার জন্যই সে এই সাফল্য পেয়েছেন। সহযোগিতা পেলে সে জীবনে অনেক বড় হতে পারবে।’