নতুন কমিটিতে সহসভাপতি পদ পাওয়া তৌহিদুর রহমান সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। বিতর্কিত কমিটি বাতিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সাবেক ছাত্রনেতারা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় আমরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে ছাত্রলীগের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। বিতর্কিত কমিটি প্রতিহতের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

চার দিন ধরে ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের তালা লাগানোয় দলীয় কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থা তৈরি হয়। চতুর্থ দিনের মতো চলা ছাত্রলীগের লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যেই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের বগুড়া জেলা শাখা কার্যালয়ের তালা খুলে সেখানে কর্মী সমাবেশের ডাক দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পদবঞ্চিত নেতাদের হটিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খুলে আজ বেলা তিনটার মধ্যে সেখানে প্রবেশের ঘোষণা দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, আজ বিকেলে কার্যালয়ে গিয়ে কর্মিসভা করেছেন তাঁরা। তবে সেখানে কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি হয়নি।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পদবঞ্চিত নেতা ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় বৃহস্পতিবার জরুরি সভা ডাকে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে দলীয় কার্যালয়ের বদলে আজ সকাল ১০টার দিকে এ সভা শুরু হয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমানের বাসভবনে, যা আজ বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত চলে।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের আদর্শিক রাজনীতি না করেও যাঁরা পদ পেয়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানোর সিদ্ধান্ত হয় আওয়ামী লীগের সভায়।

এর আগে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলন ছাড়াই সাত বছর পর ঘোষিত এ কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ জনের নাম আছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই শহরের টেম্পল সড়কে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। ওই ভবনে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কার্যালয়। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ওই ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।