বছরজুড়ে বিতর্কে রাকসু, প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’, বাস্তবায়ন সামান্য

১২ মাসে ২৪ সংস্কারের অঙ্গীকার করে নির্বাচনে জিতেছিল ছাত্রশিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট। মেয়াদের শেষে এসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)ফাইল ছবি

গত ২৩ আগস্ট দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট। অগ্রণী ব্যাংকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দীর্ঘ সারি শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন ফি জমা দিচ্ছিলেন তাঁরা। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে তাঁদের শরীর বেয়ে ঝরছিল ঘাম। সেখানে কথা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে তাঁর সময় লাগল দুই দিন।

‘কাগজপত্র নিয়ে হল, ব্যাংক, বিভাগে কয়েক দফা যাতায়াত করতে হয়। হল প্রাধ্যক্ষের একটা স্বাক্ষরের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগে। দাপ্তরিক নানা কাজ শেষ করে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হলো। এত যে ভোগান্তি, দেখার যেন কেউ নেই’—আক্ষেপ আমিনুল ইসলামের।

এই ভোগান্তি নতুন নয়। বিভিন্ন সময় ভর্তি ফি জমা, ফরম পূরণসহ যাবতীয় কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের দাবি উঠলেও তা মুখে মুখেই রয়ে গেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন। এর আগে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ বিষয়টি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু রাকসুর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২৬ অক্টোবর। শেষ পর্যায়ে এসেও সমাধান হলো না।

চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ইশতেহারে আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। মেয়াদের ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।
আরও পড়ুন

‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’—এমন স্লোগান সামনে রেখে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। ২৩টি পদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টিতে জয়লাভ করে প্যানেলটি।

চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ইশতেহারে আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। মেয়াদের ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।

► ভর্তি ও ফরম পূরণ কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। ► আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও ইন্টারনেট সমস্যা আগের মতোই। ► লিগ্যাল ডেস্ক, হেল্পলাইন ও নিরাপত্তা সেল চালু হয়নি। ► সবচেয়ে বেশি বিতর্কে জড়িয়েছেন আম্মার।

শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা বলছেন, রাকসুর প্রতিনিধিরা ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগী না হয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশগ্রহণ, আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করানো, গণমাধ্যম বন্ধের হুঁশিয়ারি, শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধ করার হুঁশিয়ারি, তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পেটানোর মতো ঘটনায় সক্রিয় হয়ে বিতর্কিত হন তাঁরা।

ইশতেহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৪ দফার মধ্যে কিছু কাজ হয়েছে, কিছু কাজ চলমান। আবার অনেক কাজ শুরুই হয়নি। রাকসুর নেতাদের দাবি, ইশতেহারের ৬৭ শতাংশ কাজ তাঁরা বাস্তবায়ন করেছেন। ৩৩ শতাংশ কাজ শুরু হয়নি।

বছরজুড়ে নানা ঘটনায় গণমাধ্যমে ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাকসু। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি, শিক্ষার্থী পেটানো, ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি ঘটনায় বেশির ভাগ সময় আলোচনা–সমালোচনায় ছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড।
আরও পড়ুন

প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’, বাস্তবতা ভিন্ন

ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের ২৪ দফা ইশতেহারের প্রথম দফা ছিল ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন’। এতে ছিল জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, জুলাই জাদুঘর স্থাপন, ১৬ জুলাই ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা’, সব ধরনের নিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ এবং রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা। এই পাঁচটি অঙ্গীকারের একটিও বাস্তবায়িত হয়নি।

ইশতেহারের দুই নম্বরে ছিল ‘মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা’। হলের খাবারের মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসে ও হলের ডাইনিং পরিদর্শন ছাড়া এ ব্যাপারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। খাবারের মান ও পরিবেশ আগের মতোই আছে। হলের আবাসনব্যবস্থার রোডম্যাপ প্রণয়ন, অন–ক্যাম্পাস জব চালু, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসন ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও থাকলেও বাস্তবায়িত হয়নি।

উচ্চশিক্ষা কী এবং এখানে সাংস্কৃতিক তৎপরতা কেমন হওয়া দরকার, শিবির সেটা জানে না বললেই চলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শিক জায়গায় তাদের শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য যা করা উচিত, তারা তা-ই করেছে।
আ-আল মামুন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বারোপের বিষয়ে বেশ কিছু অঙ্গীকার ছিল প্যানেলটির। এর মধ্যে স্নাতকোত্তরের থিসিস শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য নিয়মিত কর্মশালার আয়োজনসহ এ–সংক্রান্ত অন্যান্য প্রতিশ্রুতির কিছু কাজ হলেও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।

এ ছাড়া এআই টুলস, জার্নাল, মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা সাবস্ক্রিপশন ফ্রি করার উদ্যোগ গ্রহণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। লাইব্রেরি ও সেমিনার লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই যুক্ত করা এবং ডিজিটাল অ্যাকসেসের ব্যবস্থা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ৩০০ চেয়ার যুক্ত করা হয়েছে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বসানো হলেও তা চালু হয়নি। তবে লাইব্রেরি প্রশাসন দাবি করেছে, এসি স্থাপনে রাকসুর ভূমিকা নেই।

শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ৬ নম্বর ইশতেহারে ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা; এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি নিশ্চিত করা; বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ সমন্বয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করা এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখা। এসব ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে আইনি সহায়তার জন্য একটি লিগ্যাল ডেস্ক চালুর কথা থাকলেও হয়নি। তবে হল উন্নয়নের নামে ৫০ টাকা আবশ্যিক ফি বাতিল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রকে ২০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যালে রূপান্তর, পর্যাপ্ত টেস্ট মেশিনারিজ ও ল্যাব চালুর কথা থাকলেও কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট–সেবা চালুর অঙ্গীকার করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। রাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চগতির ইন্টারনেট–সেবা চালু করতে জরিপ করা হয়েছে। এরপর হিট প্রজেক্টের আওতায় ১৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ অনুমোদন দিয়েছে ইউজিসি। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। 

এ ছাড়া নিরাপদ ক্যাম্পাস, পরিবহনব্যবস্থা সহজীকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু, বুলিং ও যৌন হয়রানি রোধে নিরাপত্তা সেল গঠন এবং ছাত্রী হল এলাকায় সুপারশপ চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় র​্যাম্প, লিফট, ব্রেইল বই, অডিও বুক, ই-লার্নিং, শ্রুতলেখকের বিষয়গুলো কাগজেই থেকে গেল।

আরও পড়ুন

যা বলছেন ভিপি-এজিএস

রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ
ছবি: সংগৃহীত

গত ১০ মাসে ইশতেহারের ৬৭ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে দাবি করে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দেড় মাস বাজেট-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় কোনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে বেশ কিছু বিষয় আছে, যেগুলোতে আমরা হাত দিতে পারিনি। কিছু কিছু ইশতেহার রয়েছে, যেগুলো আসলে এক বছরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের অনেক কাজ চলমান। আশা করছি, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সেগুলো দৃশ্যমান হবে।’

আরও পড়ুন

বিতর্কে রাকসু

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার
ফাইল ছবি

বছরজুড়ে নানা ঘটনায় গণমাধ্যমে ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাকসু। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি, শিক্ষার্থী পেটানো, ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি ঘটনায় বেশির ভাগ সময় আলোচনা–সমালোচনায় ছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান।

একই মাসে শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর ‘অপারেশন জিরো টলারেন্স ফর ফ্যাসিজম’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামীপন্থী ছয় ডিনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে তাঁদের হুমকি দেন ও অশোভন মন্তব্য করেন তিনি। পরে ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সব কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলে তাঁরা দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। পরদিন প্রশাসন ডিনদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

আরও পড়ুন

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আম্মার। ৫ মে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেন, ‘কুকুর বিড়াল মেরোনা, নাস্তিক পেলে ছেড়োনা। লীগ পেলে ছেড়ো না।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে তিনি পোস্টটি সরিয়ে দেন। একই মাসে ডাকসুর এক নারী প্রতিনিধিকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করেন।

২৭ জুন শহীদজননী জাহানারা ইমাম সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করেন রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান। 

২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পিটিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন আম্মারসহ রাকসু ও শিবিরের নেতারা। এ ঘটনায় ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানোর কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। এর প্রতিবাদে রাকসুর সব কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

বির্তকিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আম্মার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারা ফ্যাসিজম ছড়াচ্ছে, কারা ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে এসব বিষয়ে তৎপর থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে যা যা কাজ করা প্রয়োজন, সেটা তো কাজের মধ্যেই পড়ছে। অভ্যুত্থানের পর কিছু দায়বদ্ধতা অবশ্যই আছে। রাকসু ভবনে এসে ছাত্রলীগ হামলা করবে আবার তাকে ছেড়ে দিব, ব্যাপারটা তো এমন না।’

নির্বাচিত হয়ে রাকসু প্রতিনিধিরা পেশিশক্তি ব্যবহার করেছেন উল্লেখ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের পেটানো, ডিনদের জোর করে পদত্যাগ করানো, হুমকি ও অযাচিত মন্তব্য করেছেন রাকসুর নেতারা। শিক্ষার্থীদের ‘সফট কর্নার’ পেয়ে তাঁরা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন।

বেলচা হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার
ফাইল ছবি

রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে হতাশা

রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাকসুর প্রতি অনেকাংশে আস্থা হারিয়েছি। কিছু কার্যক্রম ছাড়া রাকসু থাকা আর না থাকা একই হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন শেখ নূর উদ্দিন আবির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাকসুর কর্মকাণ্ড আশাহত করেছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে তাদের মুখরোচক ইশতেহার কাজ করেছে। কিন্তু জয়ী হওয়ার পর ইশতেহার বাস্তবায়নে কোনো চেষ্টা করেনি। আর তাদের ইশতেহারই ছিল অতিরঞ্জিত।

‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, জুলাই–পরবর্তী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু কয়েকটি কাওয়ালি অনুষ্ঠান, জুলাইকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান ও ওয়েলফেয়ার ভবনের ছাদে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছাড়া তারা তেমন দৃশ্যমান কাজ করতে পারেনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চশিক্ষা কী এবং এখানে সাংস্কৃতিক তৎপরতা কেমন হওয়া দরকার, শিবির সেটা জানে না বললেই চলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শিক জায়গায় তাদের শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য যা করা উচিত, তারা তা-ই করেছে।

আরও পড়ুন