প্রায় সব সরকারি দপ্তর ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে: ব্যবসায়ী মোস্তফা হায়দার
টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী না হওয়ার পেছনে দুটো কারণ আছে। প্রথমত, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাজার ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে ঢাকাকেন্দ্রিক করে গড়ে তুলেছি। দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রশাসনিক সুবিধার কারণে প্রায় সব সরকারি দপ্তর ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে।’
চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে—শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার। আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের মেঘলা হলে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো। এতে সহায়তা করছে শিল্প গ্রুপ জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, ‘আজ যদি আমরা রিজিওনাল কানেকটিভিটির কথা ভাবি—পূর্ব দিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে সংযোগের কথা ভাবি—এই প্রেক্ষাপটে এখন সময় এসেছে চট্টগ্রামকে আবার ফোকাসে আনার। আজ ঢাকা তিন কোটিরও বেশি মানুষের শহর। সময়ের প্রয়োজনে ঢাকার ওপর চাপ কমানো এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি একটি বাধ্যবাধকতা। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশের কোস্টাল এরিয়াগুলোর দিকে যদি আমরা তাকাই, দেখব—এই লবণাক্ত ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে তেমন কৃষিকাজ হয় না। কিন্তু এগুলো শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। উদাহরণ হিসেবে আমরা মিরসরাই ইকোনমিক জোনের কথা বলতে পারি—এটি একটি বড় সাফল্যের গল্প। যেখানে আগে কেবল কাদা আর জোয়ার-ভাটার পানি ছিল, আজ সেখানে শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।’
শিল্পোদ্যোক্তা মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, ‘আমি মনে করি, মহেশখালী থেকে নোয়াখালী, চাঁদপুর হয়ে ভোলা পর্যন্ত একটি কোস্টাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর গড়ে তোলা সম্ভব। এর কয়েকটি বড় সুবিধা আছে, এতে আমরা ধানি ও উর্বর কৃষিজমি দখল করছি না; বরং কম ব্যবহার হওয়া জমিকে কাজে লাগাতে পারছি। কোস্টাল এলাকায় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে। শিল্প যদি কোস্টলাইনের সমান্তরালে গড়ে ওঠে, তাহলে অবকাঠামো ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।’
মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, ‘আজ আমরা সমুদ্রের এফএসআরইউ (মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল) থেকে ঢাকায় গ্যাস আনতে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার নতুন পাইপলাইনের পরিকল্পনা করছি। কিন্তু যদি শিল্প কোস্টাল লাইনের কাছাকাছি থাকে, তাহলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি লাইনের খরচ অনেক কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শহরের ভেতরের সড়কজট, বাসযোগ্য জমির ওপর চাপ এবং পরিবেশগত ঝুঁকিও কমবে। নদীপথ ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে।’ মোস্তফা হায়দার বলেন, ‘আমি মনে করি, কোস্ট লাইনে যেগুলো লো লাইন ল্যান্ড আছে, যদি ওগুলোর ব্যবহার করি এবং আমাদের ইনল্যান্ডের ওপরে চাপটা কমাই পরিকল্পিত শিল্পায়ন করার সুযোগ বেড়ে যাবে।’