গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অন্য দিনের তুলনায় কম যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আজ সকালে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম। হঠাৎ ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ার প্রভাব মহাসড়কে স্পষ্ট। ডিজেলে চলা পরিবহন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। একে তো বাস কম, তার ওপর বেশি ভাড়া গুনতে হওয়ায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেক যাত্রী।

চন্দ্রা থেকে প্রতিদিন ৩৫ টাকা দিয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যাতায়াত করেন কারখানার শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে আজ সেই ভাড়া নেওয়া হয় ৪৫ টাকা। এ নিয়ে বাসে চালকের সহযোগীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে তাঁর। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে তাঁকে। একই বাসে থাকা অপর যাত্রী খায়রুর ইসলাম বলেন, বাসে তাঁর কাছেও ১০ টাকা বেশি ভাড়া দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া বেঁধে যায়। এরপরও পাঁচ টাকা বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।

গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলগামী জনতা এক্সপ্রেস গাড়ির চালক আবুল কাশেম বলেন, ‘মালিক পক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আজকে (শনিবার) আগের ভাড়ায় চলছে। এভাবে চললে আমাদের লোকসান হবে। এ জন্য ভাড়া না বাড়ালে আগামীকাল (রোববার) থেকে গাড়ি বের করব না।’ অনেকটা একই কথা জানান বাসচালক আতিকুল রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনই গাড়ি চলবে, লস দিয়ে তো মালিক গাড়ি চালাবেন না। অনেক গাড়ি আজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এই ট্রিপ নিয়ে গাড়ি বন্ধ করে দেব। পরবর্তী সময়ে সরকার নতুন ভাড়া ঠিক কইরা দিলে সেই ভাড়া দিয়ে গাড়ি চলবে।’

কালিয়াকৈর পরিবহনের চালক রুবেল হোসেন বলেন, তেলের দাম বেড়েছে কিন্তু ভাড়া বাড়েনি। কবে বাড়বে বলাও যাচ্ছে না। অনেক গাড়িতে ১০ থেকে ১৫ টাকা ভাড়া বেশি নিচ্ছে। বেশি টাকা দিয়ে তেল কিনতে হয়েছে। ভাড়া বেশি না নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান উদ্দিন জানান, ছুটির দিন থাকায় মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কম। এ ছাড়া যেসব পরিবহনে তেল ছিল না, মূল্যবৃদ্ধির কারণে আজ হয়তো গাড়ি নিয়ে বের হননি চালকেরা। ভাড়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবহনের চালক বা মালিকদের কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন