মোনাজাত শেষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঢাকা-আশুলিয়া সড়ক, টঙ্গীর কামারপাড়া-মন্নুগেট সড়কসহ আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে মানুষের ঢল নামে। মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে মোনাজাত শুরুর আগে সকাল ১০টার দিকে এই তিন সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় গাজীপুর ও ঢাকা-মহানগর ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ। তাই দল বেঁধে মুসল্লিরা একসঙ্গে বাড়ির পথে হাঁটছিলেন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ইজতেমায় এসেছিলেন দুই বন্ধু মো. জিয়ারুল ও ইকবাল হোসেন। তাঁরা টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় আসতেই মোনাজাত শুরু হয়। এরপর সেখানেই একটি মাইকের নিচে বসে পড়েন তাঁরা। অংশ নেন মোনাজাতে।

জিয়ারুল বলেন, ‘অফিসের কাজের কারণে প্রথম পর্বের ইজতেমায় আসতে পারিনি। কিন্তু এবারের ইজতেমা কোনোভাবেই মিস দেব না, তাই অনেক অনুরোধ করে ছুটি নিয়েছি। এখন শেষ পর্যন্ত মোনাজাতে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১০ বছরের মধ্যে একটা ইজতেমাও আমার মিস যায়নি। তাই এবার প্রথম পর্বে আসতে না পেরে খুব খারাপ লাগছিল। পরে বহু কষ্টে স্যারদের বুঝিয়ে ছুটি নিয়েছি।’

তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলো আলাদাভাবে। ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পক্ষ বা মাওলানা জুবায়ের অনুসারীদের ইজতেমা। এরপর শুক্রবার সকালে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় পক্ষ বা মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারীদের ইজতেমা। তাঁদের ইজতেমাও আজ রোববার শেষ হলো দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে।

এদিকে মোনাজাতে অংশ নিতে আজ সকাল থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন সাধারণ মুসল্লিরা। তাঁদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার।