প্রটোকল ছেড়ে রিকশায় ঘুরলেন ভূমিমন্ত্রী, রাজশাহী সফরে অনুপস্থিত বিএনপির একাংশ
ভূমিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিন দিনের সরকারি সফরে রাজশাহীতে এসেছিলেন রাজশাহী–২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান (মিনু)। সফর শেষে রোববার বিকেলে একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফেরেন। সফরের সময় সরকারি প্রটোকল ফেলে আগের মতো রিকশা নিয়ে শহরে ঘুরেছেন সিটি করপোরেশনের এই সাবেক মেয়র। চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন, যা নিয়ে রাজশাহীর অনেক মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
এদিকে সফরকালে ভূমিমন্ত্রী প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুদিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন। এসবের কোথাও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ সদস্যের কমিটির একাংশকে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা যায়নি, যা নিয়ে রাজশাহীর রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা।
মিজানুর রহমান ঢাকা থেকে সড়কপথে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় রাজশাহীতে পৌঁছান। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী সার্কিট হাউসে বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) ও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এই কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক (মিলন) ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন (বুলবুল) উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজশাহীর নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভূমিমন্ত্রী। সেখানে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ বা সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমানকে (রিটন) দেখা যায়নি। তাঁরা দলীয়ভাবে রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছেন।
একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে ও বিকেলে মন্ত্রী নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। রোববার সকালেও তিনি একই জায়গায় মতবিনিময় সভা করেন। এসব অনুষ্ঠানেও মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দেখা যায়নি।
এদিকে রাজশাহীতে অবস্থানকালে মিজানুর রহমান আগের মতোই রিকশায় চড়ে শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন। প্রতিদিনের মতো নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজনের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এ নিয়ে শহরের মানুষ মন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় সফরকালে বিভিন্ন মহল থেকে মিজানুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকাভাবে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। নগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিকতাও ছিল না বলে দলীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। সার্কিট হাউসের সভায় মন্ত্রীর সঙ্গে সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে নগরের সভাপতি বা সম্পাদক ডাক পাননি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সে জন্য তাঁরা মন্ত্রীর পরবর্তী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি।
এদিকে মহানগর যুবদলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের ঠাঁই পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে রোববার সকালে নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে যুবদলের পক্ষ থেকে একটি মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিজানুর রহমানের রাজশাহীর সফরকালেই এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ আলাদা করে ফুল দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, ‘ব্যাপারটা সে রকম নয়। উনি (মন্ত্রী) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। আর আমরা তার পাঁচ-দশ মিনিট আগেই রাজশাহী কলেজে দিয়েছি। এটা কোনো ব্যাপার না। রমজান মাসের কারণে আমাদের তাড়াহুড়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দাওয়াত না পেলে তো কোথাও যেতে পারি না। সার্কিট হাউসে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিট (সভা) করেছেন। সঙ্গে সাবেক মেয়র (মোসাদ্দেক হোসেন) ছিলেন। কিন্তু আমরা দাওয়াত পাইনি। এটা মন্ত্রীকেই জিজ্ঞেস করতে হবে, উনি কাকে ডেকেছেন আর কাকে ডাকেননি।’
রাজশাহী ছাড়ার সময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওরা (মহানগর বিএনপির সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক) এসেছিল। ওদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’ তাঁদের ডাকা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, ওরাই এসেছিল। ওরা আমার ছোট ভাই। কাকে টপকে কে পাশে বসবে...। ওদের সবাইকে নিয়েই আমি কাজ করতে চাই।’