ক্লাস বন্ধে হতাশ শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই করোনার কারণে পিছিয়ে গিয়ে সেশনজটে আছি। এর মধ্যে শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের কারণে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমাদের পরীক্ষাও চলছিল। তবে এর মধ্যেই শিক্ষকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গিয়ে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। ফলে সব শিক্ষার্থী চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’

ফিশারি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষকদের কোন্দলে পড়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন। সমস্যার দ্রুত সমাধান করে শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার জন্য দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক মো. আল মামুন সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। আজ সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে উপাচার্যের অসুস্থতার কারণে ওই সভাও স্থগিত হয়ে গেছে।

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা গত রোববার উপাচার্যের সঙ্গে ১০ দফা দাবি নিয়ে আলোচনায় বসেন। ওই আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, আজ সিন্ডিকেট সভা হবে। সিন্ডিকেট সভার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকেরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। উপাচার্যও এ সিদ্ধান্তে একমত হন। তবে রোববার ওই আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাবি করে, শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে এবং আগামী বুধবার থেকে তাঁরা ক্লাসে ফিরে যাবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট। অন্যদিকে গতকাল সোমবার উপাচার্যের প্ররোচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন তালাবদ্ধ করে এবং শিক্ষকদের অফিসকক্ষে ঢুকতে বাধা দেন। এ পরিস্থিতিতে এই দুর্নীতিগ্রস্ত উপাচার্যের ক্রমাগত মিথ্যাচার, মিথ্যা সংবাদ প্রচার ও শিক্ষকদের অপমান করার প্রতিবাদে শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি, সিন্ডিকেট, সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনসহ আবারও উপাচার্যের অপসারণ দাবি করছেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্যের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ছাড়াও উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকেরা আরও কিছু অভিযোগ তুলেছেন। এগুলো হলো পদোন্নতিতে অনিয়ম, অর্থের অপচয়, বিধিবহির্ভূতভাবে রাজশাহীতে নিজ বাসায় পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি বরাদ্দ করা, প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও অনেক কর্মকর্তাকে মাসিক লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া। বেশির ভাগ সময় তিনি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকেন। ক্যাম্পাসে উৎপাদিত ধান, মাছ ও সবজি উপাচার্য নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩০ জনকে ৪২০ টাকা করে প্যাকেট বিরিয়ানি খাওয়ানোসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে।