আজ মঙ্গলবার দুপুরে র‍্যাব-১৫-এর কক্সবাজার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে অপহৃত চারজনকে উদ্ধারের তথ্য জানান উপ-অধিনায়ক মেজর আরেফিন ছিদ্দিকী। তিনি বলেন, অভিযানে ফরিদ আহমেদ নামের অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। তবে তদন্তের স্বার্থে র‍্যাব তাঁর পুরো পরিচয় দেয়নি।

র‍্যাব জানায়, গত শুক্রবার ও রোববার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীয়াপাড়া থেকে ছয়জনকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার পর অভিযানে নামে র‍্যাব। গতকাল রাতে ঘোড়াপাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত চারজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে র‍্যাব। মোহাম্মদ হোসেন নামের এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে ওই পাহাড়ে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অপহরণসহ নানা অপরাধ করে আসছিল। রোহিঙ্গাদের ওই চক্রকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। বিশেষ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অপহরণ করছে রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসীরা। অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কারা কারা জড়িত, তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে র‍্যাব।

দুপুরে র‍্যাবের কার্যালয়ে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা সাংবাদিকদের কাছে অপহরণের পর ভয়াবহ নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। কিশোর মোহাম্মদ নুর বলে, এলাকার এক কিশোর কথা আছে বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় মাঠে যায়। সেখান থেকে একদল লোক তাকে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে হাত-পা বেঁধে মুক্তিপণের জন্য বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়।

মোহাম্মদ নুর আরও জানায়, জঙ্গলের আস্তানায় অপহৃত আরও পাঁচজনকে রাখা হয়। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণের জন্য দুজনকে ছেড়ে দেয়। তাদের চারজনকে জঙ্গলে আটকে রাখে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। তাদের কয়েকজনের হাতে অস্ত্র ছিল। গতকাল রাতে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এরপর র‍্যাব তাদের উদ্ধার করে নিজেদের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন