নিহত আজাদুল হক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের আরব আলীর ছেলে। তিনি চন্দ্রা এলাকার মাহমুদ জিন্স নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন।
কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিমে মাহমুদ জিন্স নামের ওই কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের সড়ক পারাপারে সহযোগিতার জন্য প্রতিদিন কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের তিন পালায় সেখানে দায়িত্ব পালন করতে হয়। আজ সকালে মহাসড়কের পশ্চিম দিকে দায়িত্বে ছিলেন মো. হুমায়ূন ও আনোয়ার হোসেন। আর পূর্ব পাশে ছিলেন আজাদুল হক ও দীপন। শ্রমিকদের সড়ক পারাপারের সময় একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক আজাদুলকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে আজাদুল ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও তিন শ্রমিক আহত হন।

কালিয়াকৈরের ডাইনকিনি এলাকায় ভাগনে মো. পারভেজের সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন আজাদুল। মো. পারভেজ বলেন, ‘আজ সকালে মামার ডিউটি (দায়িত্ব) ছিল। তাই তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে সকাল সকাল বের হয়ে আসছিলেন। ডিউটি করতে গিয়ে ট্রাকের চাপায় মামা মারা গেলেন।’

কারখানার নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজাদুল আমাদের কারখানায় আট বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করত। আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাস্তা পারাপারের জন্য পালা করে দায়িত্ব পালন করে থাকি।’

কোনাবাড়ি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে এর চালক পালিয়ে গেছেন। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তির পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে ট্রাকের চাপায় আজাদুল নিহতের ঘটনায় শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ওই ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় শ্রমিকদের একাংশ মহাসড়কে যানজটে আটকে থাকা অর্ধশতাধিক যানবাহনে ভাঙচুর চালান। এতে মহাসড়কের দুই দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত নিরাপত্তাকর্মীর ক্ষতিপূরণ ও মহাসড়কে পদচারী-সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পেয়ে আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে সরে যান। এতে প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।