বহিষ্কৃত যুবদল নেতার হুমকি, অন্য দুই নেতার উদ্দেশে বললেন, ‘৩ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়’

মাহবুব মিজিছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক জেলেকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অঙ্গসংগঠনটির অন্য দুই নেতাকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও গতকাল সোমবার রাত থেকে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত নেতার নাম মাহবুব মিজি। তিনি উপজেলার ষাটানল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ষাটনল এলাকায় একটি খেলায় দাওয়াত না দেওয়ায় ফুলচাঁন বর্মণ নামের এক জেলেকে মারধর করে মুঠোফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই রাতে ফুলচাঁন বাদী হয়ে মাহবুব মিজিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় মামলা করেন। পরে মাহবুবকে দল থেকে বহিষ্কার করে চাঁদপুর জেলা যুবদল।

অন্যদিকে হুমকি পাওয়া নেতারা হলেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ জামান ওরফে টিপু ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ ওরফে সোহেল। দল থেকে বহিষ্কারের পেছনে এই দুই নেতার হাত আছে অভিযোগ তুলে গত রোববার নিজের ফেসবুকে লাইভ করেন মাহবুব।

২৬ মিনিটের ভিডিওতে ওই দুই নেতার উদ্দেশে মাহবুব বলেন, ‘তাঁরা এত নোংরা কাজ, নোংরা জীবন যাপন করতে পারে, তা ভাবি নাই। এ রকম সোহেল, টিপু আমি নিজের টাকায় প্রতিদিন ১০-২০টা পালি। হারামি, ছোটলোক কোথাকার। তুই কেন আমারে বহিষ্কার করাইছস টেহার বিনিময়ে? ভালো হয়ে যাগা, সম্মান নিয়া এলাকা ছাইড়া চইলা যা। ৩ দিনের সময় দিলাম। যদি না যাস, আর আমার এইডা নিয়া একটু চিন্তা করতে হয়, তাহলে করুণ পরিণতি নিয়ে মতলব ছাড়তে হবে তোদের।’

লাইভের একপর্যায়ে মাহবুব আরও বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের দোসরের (জেলে ফুলচাঁন বর্মণ) মোবাইল ভাঙায় সাসপেন্ড হলাম। অথচ আওয়ামী লীগের সময় আমার ওপর অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে। আমার ওপর হামলা-মামলা হয়েছে। এরপরও আমি সম্মানের সঙ্গে বেঁচে আছি।’
এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে রাশেদ জামান বলেন, বিষয়টি দলের নেতা ও পুলিশকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ফয়সাল আহমেদের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন ধরেননি।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবেন।

আরও পড়ুন

এদিকে মামলা করায় হুমকি ও চাপের মুখে আছেন বলে দাবি করেছেন ফুলচাঁন বর্মণ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলা তুলে নিতে তাঁকে নানাভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় থাকতে হলে মামলা তুলে নিতে হবে বলেও বারবার শাসানো হচ্ছে তাঁকে। গতকাল রাতেও বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার মাধমেও মামলা তুলতে চাপ দেওয়া হয়েছে। এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, জেলেকে মামলা তুলতে হুমকির বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়েছে। মামলাটি ইতিমধ্যে আদালতে চলে গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহবুব মিজির মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন