এর আগে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভুলতা এলাকায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মাসুদুর রহমানের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। একই রাতে যুবদল ও ছাত্রদলের আরও পাঁচ নেতা-কর্মীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির।

রোববার রাতে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন মিয়াজি, যুগ্ম সম্পাদক ইউসুফ হাওলাদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মো. কামাল, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হযরত আলী ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মাসুমের বাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ।

৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের লোকজনকে মারধর করেন। ঘরে থাকা আসবাব ভাঙচুর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান। তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের গলায় দা ঠেকিয়ে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন। ঘরে থাকা ৯০ হাজার টাকাও নিয়ে যান। তাঁর বাবা আবুল হোসেন ও মা মাহফুজা বেগমকেও মারধর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বজলুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে তাঁরা অংশ নেন বলে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও চারজন বাসিন্দা নিশ্চিত করেছেন।

যুবদলের নেতা মো. মাসুম বলেন, ‘হামলাকারীরা সব বজলুর মেম্বারের লোকজন। এই এলাকায় বজলুর মেম্বারের বাইরে কেউ নাই। ঘরে যা আছিল, বাইরাইয়া ভাইঙা রাইখা গেছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে বজলুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কথা বলেননি। পরে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোনকল কেটে দেন। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইউসুফ হাওলাদারের বাড়িতেও হামলা হয়েছে। পরিচয় না প্রকাশের শর্তে তাঁর পরিবারের এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হামলা হয়েছে। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। হামলার সময় তাঁরা ‘বিএনপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ বলে স্লোগান দেন। হামলার সময় তাঁদের দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতা বজলুর রহমান বিষয়টির ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন মিয়াজি বলেন, এক মাস ধরে রূপগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চলছে। সবাই পালিয়ে বেড়ান। তারপরও নিজেদের বাড়িঘর রক্ষা করা যায় না।

রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, এটা ধারাবাহিক হামলার অংশ। ২৯ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৪২ জন নেতা-কর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে শনিবার রাতে ভুলতা এলাকায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মাসুদুর রহমানের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রোববার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা করবেন না বলে আগেই প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন মাসুদুর।

মামলা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির নেতা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘হামলার ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুরোনো মামলায় পুলিশি ধরপাকড় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেনের (গ সার্কেল) মুঠোফোনে কল করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় আছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন