নিহত বুলবুল নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহাব মিয়ার ছেলে। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে। বুলবুল চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। আট মাস আগে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই পরিবারটির আশা-ভরসা ছিলেন বুলবুল।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বুলবুল হত্যা কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনাস্থলে তাঁর সঙ্গে থাকা ও পরে হাসপাতাল থেকে পালানো ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন ও প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে নরসিংদীতে ছাত্রসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

default-image

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বুলবুলের বড় ভাই মো. জাকারিয়া আহমেদ, সুজন আহমেদ ও পারভেজ আহমেদ এবং কলেজজীবনের সহপাঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আবরার রিফাত প্রমুখ।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় বুলবুলের লাশ নন্দীপাড়া গ্রামে এসে পৌঁছায়। তাঁর লাশ ভেলানগরে এসে পৌঁছালে স্বজন, এলাকাবাসী ও সহপাঠীদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তবে বাড়িটিতে ঢোকার রাস্তা সরু হওয়ায় লাশ বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বাবার কবরের পাশে দাফনের উদ্দেশ্যে রাত আটটার দিকে মাধবদীর খড়িয়া এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফা জানাজা শেষে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে গাজী-কালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় বুলবুল ছুরিকাহত হন। পরে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পৌনে আটটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন