জাকির হোসেনের স্ত্রী সখিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গত শনিবার বেলা দুইটার দিকে জাকিরের মুঠোফোন নম্বর ক্লোন করে একটি চক্র যোগাযোগ করে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, জাকির হোসেন তাদের জিম্মায় আছেন। তাঁকে পেতে হলে মুক্তিপণ বাবদ দেড় লাখ টাকা দিতে হবে। পরে অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের জানানো হয় মুক্তিপণ বাবদ তিন লাখ টাকা দিতে হবে।

সখিনা আক্তার বলেন, স্বামীকে ফিরে পেতে একাধিক বিকাশ হিসাবে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। এরপর জাকিরকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আপনারা বোধ হয় কোথাও রিপোর্ট (অভিযোগ) করেছেন, আমরা টাকা উত্তোলন করতে পারছি না।’

জাকিরের নম্বর ক্লোনের বিষয়ে সখিনা আক্তার বলেন, ওই নম্বরে ফোন করা হলে ফোন যায় না। ওপাশ থেকে যখন ফোন করে, তখন নম্বরের পাশে একটি লাল চিহ্ন ওঠে। এতে তাঁরা বুঝতে পারেন নম্বরটি ক্লোন করা।

সখিনা আক্তার আরও বলেন, গতকাল সোমবার পর্যন্ত ওই চক্র তাঁর সঙ্গে ও জাকিরের বাবার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে। তারা জানায়, জাকির তাদের জিম্মায় আছেন এবং ভালো আছেন। তাঁকে মুক্ত করতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। আগের পাঠানো টাকা তারা তুলতে পারেনি। নতুন করে টাকা না দেওয়ায় আজ আর চক্রটি যোগাযোগ করেনি।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন ফকির প্রথম আলোকে বলেন, জাকির হোসেন প্রায় তিন বছর ধরে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একজনকে ফরিদপুরের বাইরের কোনো জেলা থেকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হেলালউদ্দিন ভূইয়া বলছেন, আটকের কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।

৮ নভেম্বর নিখোঁজ হন জাকির হোসেন। এর দুই দিন পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন ফকির নিখোঁজের বিষয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।