মানববন্ধনে ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট নিয়ে ইশরাত জাহানের স্বজনেরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে ক্রিকেটার আল আমিনের স্ত্রী ইশরাত জাহান দাবি করেন, তাঁর স্বামী অন্য এক নারীকে নিয়ে বাসা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। এ ঘটনায় তিনি মিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ইশরাত জাহান শৈলকুপা উপজেলার বৃত্তিদেবী রাজনগর গ্রামের ছবিবর রহমানের মেয়ে। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে ক্রিকেটার আল আমিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে মাহমুদ আমিন মিনহাজ (৬) ও মাহমুদ আমিন মোহাইমিন (২) নামের দুই ছেলে আছে।

default-image

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম হাকিম আহম্মেদ, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুন্নবী, কাচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন জোয়ার্দ্দার, সমাজকর্মী খন্দকার ফারুক আহম্মেদ, ইশরাতের বাবা ছবিবর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের ওপর নির্যাতন করে আসছেন। স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় আল আমিনকে গ্রেপ্তার ও তাঁর শাস্তির দাবি করেন তাঁরা।

ইশরাত জাহান আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ২০২১ সালের প্রথম দিকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী অন্য নারীর সঙ্গে মিশছেন। বিষয়টি জানতে চাইলে আল আমিন খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে ২০২১ সালের মার্চে আল আমিন তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর স্বামীর গ্রামের বাড়িতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ি বুঝিয়ে তাঁকে ঢাকায় পাঠান। ঢাকায় ফিরে পাশের বাসার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, আল আমিনের সঙ্গে ওই বাসায় একজন নারী ছিলেন। আল আমিন ওই নারীকে বিয়ে করেছেন বলে প্রতিবেশী ও আল আমিনের বন্ধুরা জানান। বিষয়টি নিয়ে ওই দিন বাসায় তুমুল ঝগড়া হয়। তিনি বিয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে এবং ওই নারীর কিছু ছবি দেখালে আল আমিন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। আল আমিন বাসা ছেড়ে চলে যান।

ইশরাত জাহান বলেন, ‘আল আমিনের দাবি, আমি যেন তাঁকে তালাক দিই। তালাক না দেওয়ায় তিনি মাঝেমধ্যে বাসায় এসে নির্যাতন করে চলে যেতেন। এভাবে সাত-আট মাস চলার পর উপায় না পেয়ে আমি গত ১১ জুলাই শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহে আসি। কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে জায়গা দেননি। তাঁরা একপ্রকার তাড়িয়ে দিয়েছেন। তখন বাধ্য হয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যাই।’ তিনি চলতি বছরের জুলাই মাসে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে মানবাধিকার সংস্থায় অভিযোগ দেন। তাঁরাও আগস্ট মাসে বিচারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তিনি নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে ক্রিকেটার আল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন