মামলার পর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিএনপির পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে তাড়াশ থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তাড়াশের তালম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন (৫৫), ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. দিদার খান (৪২), তাড়াশ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাজীব আহম্মেদ (৩৮), বারুহাঁস ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন সরকার (৪৫) ও মাধাইনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ (৪০)।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামিদের মধ্যে এনায়েতপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, সদস্যসচিব মঞ্জু শিকদার, বেলকুচি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম গোলাম, সদস্যসচিব বনি আমিন, কাজীপুর উপজেলার সদস্যসচিব সেলিম রেজা, সাবেক মেয়র আবদুস সালাম, রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক, সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, তাড়াশ উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব আহম্মেদসহ বিভিন্ন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা আছেন। এর মধ্যে রাজীব আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলাগুলো করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। পুলিশ আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পুলিশ তাঁদের গণসমাবেশ ভন্ডুল করতে এভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

এনায়েতপুর থানায় করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, খুকনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন গতকাল রাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে এনায়েতপুর কেজির মোড় এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে মণ্ডলপাড়া নিরাময় ক্লিনিকসংলগ্ন পশ্চিমের বাগানের কাছে পৌঁছানোর পরপরই সেখানে ওত পেতে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের লক্ষ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। তাঁদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এনায়েতপুর থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা আফাজ উদ্দিন ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১১৬ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

বেলকুচি থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে রোববার রাতে সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে মুকুন্দগাতিতে ফিরছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পথে ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আদাচাকি গ্রামে পৌঁছানোর পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা করেন সেখানে আগে থেকে ওত পেতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা। এ ঘটনায় রাতেই বেলকুচি পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ আহম্মেদ বাদী হয়ে বিএনপির ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বেলকুচি থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ককটেল হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

তাড়াশ থানায় করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা লাউতা চারমাথা আকবর আলী বাজার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তালম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পুলিশ রাতভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ। তাঁদের কর্মসূচি সামনে রেখে ভয়ভীতি দেখাতে এ ধরনের ‘হয়রানিমূলক’ মামলা করা হয়েছে।

কাজীপুর থানার ওসি শ্যামল কুমার বলেন, গত সোমবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম মঙ্গলবার একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

রায়গঞ্জ থানার ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আজ সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জুয়েল আকন্দ বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ১৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে জেলাজুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও গায়েবি মামলা দিচ্ছে। নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাড়াশ উপজেলায় যুবদলের নেতা মাসুমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক, রাজশাহী সমাবেশ সফল হবেই হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম হোসেন আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০১৩-১৪ সালের মতো বিভিন্ন উপজেলায় তাণ্ডব শুরু করেছে। তারা দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।