সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা কোনো বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করি নাই। প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করবে এটি আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু তারা সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরের কাচারি বাজার এলাকায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন, আসন্ন সিটি নির্বাচন ও আমাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিলবোর্ড লাগানো ছিল।’

সাফিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতের আঁধারে বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে ফেলে সমাবেশের বিলবোর্ড লাগিয়েছে বিএনপি, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ। অথচ আমরা কখনো কারও বিলবোর্ড বা ব্যানারের ওপর ব্যানার লাগাইনি। বিএনপি শুধু সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা থেকে এটি করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা কী পদক্ষেপ নেবে সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের বিলবোর্ডের ওপর লাগানো বিলবোর্ড বিএনপি দ্রুত সরিয়ে না নিলে এ জন্য কোনোরকম বিশৃঙ্খলা হলে দায়ভার বিএনপিকেই নিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হোক। তাদের সমাবেশ নিয়ে আমরা কোনো মিছিল-মিটিং বা পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করিনি। অথচ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উন্নয়ন প্রচার করা বিলবোর্ডে তারা সমাবেশের বিলবোর্ড লাগিয়েছে। লজ্জাজনক ব্যাপার হলো, তারা দিনের বেলা না করে রাতের আঁধারে করেছে। এটা প্রমাণিত যে, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায় না। সন্ধ্যার মধ্যে বিলবোর্ড না সরালে আমরা তা অপসারণ করব।’

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নওশাদ রশীদ, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিভূতিভূষণ সরকার, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদ আরমান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সাফিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা বিলবোর্ড এজেন্সির কাছে আবেদন করে বরাদ্দ নিয়েছি। টাকাও দেওয়া হয়েছে। তারাই (এজেন্সি) বিলবোর্ড লাগিয়েছে। আমরা ওই বিলবোর্ড লাগাতে যাইনি।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর বেলা তিনটার দিকে বিলবোর্ড এজেন্সির লোকজন বিএনপির বিলবোর্ডটি অপসারণ করে সেখানে আওয়ামী লীগের দুটি বিলবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুল হক বলেন, ‘বিলবোর্ড সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকলেও সেটি দেখাশোনা করে একটি এজেন্সি। যতটুকু জানতে পেরেছি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে এখন আর সমস্যা নেই। ওই এজেন্সির কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।’