বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব লিটন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি, জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরা এ বিষয়ে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলার বিষয়ে নেতা-কর্মীরা আলোচনা করছেন।

নয়ন মিয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবচর গ্রামের রহমত উল্লাহর বড় ছেলে। তিনি সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ও চরশিবপুর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি বিপণিবিতানে শ্রমিকের কাজ করতেন। আট সদস্যের সংসারের খরচ একাই চালাতেন নয়ন।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে ২৬ নভেম্বর কুমিল্লার গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রচারপত্র বিতরণের পর মিছিলের শেষ দিকে বিএনপি, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সেখানে মিছিলের পেছন দিক থেকে পুলিশের এক কনস্টেবল এগিয়ে এসে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান নয়ন।  গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে নয়নের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাত সাড়ে ১০টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরশিবপুর ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে চরশিবপুর গ্রামে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তো আর মামলা নেবে না। আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থলে থাকা থানার ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যদের আসামি করে মামলা করা হবে।

এদিকে নয়ন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মামলা না হলেও গত শনিবার রাতে পুলিশ আহতের ঘটনায় বিএনপি, এর সহযোগী সংগঠনের ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞতানামা ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে বাঞ্ছারামপুর থানায় মামলা করেছে পুলিশ।