দুই চরমপন্থী সংগঠনের বিরোধে যশোরের রানা প্রতাপ হত্যা, দুই শুটার গ্রেপ্তার: পুলিশ

রানা প্রতাপ বৈরাগীছবি: সংগৃহীত

যশোরের মনিরামপুরে ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ‘শুটার’কে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভোররাতে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি নিষিদ্ধঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আটক দুজন হলেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার বারান্দি পালবাড়ি এলাকার মাহমুদ হাসান হৃদয় (২৮) ও বারান্দি পূর্বপাড়ার শামীম হোসাইন (৩১)। আসামিদের আটকের পর বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলায় মোট চারজন আটক হলো। মামলা তদন্ত করছে যশোর ডিবি পুলিশ।

রানা প্রতাপের বাড়ি কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামে। মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে তাঁর একটি বরফ তৈরির কারখানা আছে। কেশবপুরের কাটাখালী বাজারে তাঁর একটি মাছের আড়ত আছে। এ ছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।

আরও পড়ুন

শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মনিরামপুরের আঞ্চলিক নেতা। অপর দিকে আটক ব্যক্তিরা পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। দুটি নিষিদ্ধঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রানা প্রতাপ বৈরাগী প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ঘের, জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর যশোরের পুলিশ মূলহোতাকে ধরার চেষ্টা করছিল। এই মামলায় ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ডিবি পুলিশ হৃদয় ও শামীমকে আটক করে। এরও আগে সাদ্দাম হোসেন নামে আরেকজনকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কপালিয়া বাজারের ঝুমুর বিউটি পারলারের পাশে অবস্থানকালে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। মাথা ও বুকে একাধিক গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির অভয়নগর অঞ্চলের আঞ্চলিক নেতা মুন্নার পরিকল্পনায় রাজিব, সূর্য আর হৃদয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার দিন রানা প্রতাপকে গুলি করে রাজিব ও হৃদয়। সূর্য তার গলায় ছুরি দিয়ে জখম করে হত্যা নিশ্চিত করে। এদের মধ্যে রাজিব ও হৃদয়কে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে আরও দুজনের নাম পাওয়া গেছে। মুন্নারা মূলত শিমুল ভূঁইয়ার অনুসারী। শিমুল ভূঁইয়া ঝিনাইদহের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি। ‌তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।