ছাত্রদলের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ প্যানেলে চ্যালেঞ্জ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও অনভিজ্ঞতা

শাকসু নির্বাচনের ছাত্রদল–সমর্থিত ‘সম্মলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ প্যানেল ঘোষণা করা হয়ছবি: প্রথম আলো

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে নানা হিসাব কষে প্যানেল দেওয়ার চেষ্টা করেছে ছাত্রদল। ছাত্রদল–সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে সংগঠনটির নেতাদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র আট প্রার্থীকে নিয়ে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ প্যানেল দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের বাইরে স্বতন্ত্র একজনকে প্যানেলের ভিপি প্রার্থী করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এ প্যানেল ঘোষণা করেন।

ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ ক্যাম্পাসে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সরব ছিলেন। জিএস পদে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি টিউশন মিডিয়া ও জরুরি মেডিসিন সেবা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত। ক্যাম্পাসে গ্রহণযোগ্যতা ও নারী শিক্ষার্থীদের ভোট টানতে এই কৌশল অবলম্বন করেছে ছাত্রদল। এজিএস পদে আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসের একজন সমন্বয়ক ছিলেন।

তবে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলে চ্যালেঞ্জও কম নয়। সংগঠনের বিদ্রোহী প্রার্থী, নারী প্রার্থীর সংকট, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনায় ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যে জড়ানো, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে প্রার্থী দিতে না পারাসহ নানা কারণে কিছুটা পিছুটান আছে।

আরও পড়ুন

প্রার্থী নির্বাচনে কৌশল

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার ছাত্রত্ব থাকায় প্যানেলের শীর্ষ পদগুলোয় প্রথমে তাঁরা আলোচনায় ছিলেন। এ ছাড়া ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন আলোচনায় ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন মনোনয়নপত্রও কিনেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রদল শাখার ‘সুপার ফাইভ’ নেতাকে প্যানেলে প্রার্থী হিসেবে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অন্য পর্যায়ের নেতা–কর্মী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ প্যানেল গঠনের চেষ্টা করেছে ছাত্রদল।

প্যানেলে ভিপিসহ স্বতন্ত্র আট প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি পদে প্রার্থী নির্বাচনে পদকেন্দ্রিক বিশেষত্বকে প্রাধান্য দিয়েছে। প্যানেলে ক্রীড়া সম্পাদক পদে শাকিল হাসানকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল টিমের অধিনায়ক। সহ–ক্রীড়া সম্পাদক পদে সাস্ট ফিটনেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অ্যাথলেট জিল্লুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে।

সাহিত্য সম্পাদক পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সভাপতি মো. আসাদুল হককে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি একজন লেখক। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে সনাতনী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদের’ অমিত মালাকারকে রাখা হয়েছে। প্যানেলে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে শুধু প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য ১৪টি পদ ছাত্রদলের বিভিন্ন পদের নেতা–কর্মীদের দেওয়া হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও অনভিজ্ঞতা

জিএস পদে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ হাসান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছাত্রদলের প্যানেলে শীর্ষ পদে না রাখায় তিনি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। তাঁকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সংগঠন। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সংগঠন থেকে ‘চাপের’ সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছেন জুনায়েদ হাসান।

আরও পড়ুন

প্যানেলে নারী প্রার্থী কম থাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ভোট প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি গত ১৬ নভেম্বর শাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘সহিংস সন্ত্রাসবাদী’ উল্লেখ করায় বিতর্কের মুখে পড়ে ছাত্রদল। এ ছাড়া বিগত সরকারের সময় ক্যাম্পাসে তেমন কার্যক্রম করতে পারেনি ছাত্রদল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সরব থাকলেও এখনো সংগঠন হিসেবে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। গত ২১ মার্চ ছাত্রদলের ৭৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। বর্তমানে যাঁরা কমিটিতে আছেন, তাঁদের ছাত্রত্ব থাকলেও রাজনৈতিক মাঠে এখনো তেমন অভিজ্ঞতা হয়নি। এরই মধ্যে দলে বিভক্তি রয়েছে। তাই এটাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহর সাক্ষাৎকার

ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম আলো: শিক্ষার্থীরা আপনাদের কেন ভোট দেবে?

মোস্তাকিম বিল্লাহ: শিক্ষার্থীদের আমাদেরই ভোট দিতে হবে, আমরা এমনটা কখনোই বলিনি। আমরা সর্বদা বলেছি, শিক্ষার্থীরা সব প্রার্থীর যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, পূর্ববর্তী সময়ের কাজ, ইশতেহার—সবকিছু দেখে যাঁদের যোগ্য মনে হয়, তাঁদের ভোট দেবে।

প্রথম আলো: নারী ভোট কেমন প্রত্যাশা করছেন?

মোস্তাকিম বিল্লাহ: আমাদের প্যানেলের যারা আছি, তারা শুরু থেকেই নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে গেছি ও তাঁদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি আদায়ে কাজ করেছি। আশা করি, আমরা তাঁদের বড় অংশের ভোট পাব।

প্রথম আলো: মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে প্রার্থী দিতে না পারা কি প্যানেলের দুর্বলতা?

মোস্তাকিম বিল্লাহ: একটি পদে প্রার্থী না দেওয়ায় প্যানেলের দুর্বলতা ভাবার কোনো কারণ নেই। আমরা এই পদে আমিনুল ইসলামকে (স্বতন্ত্র) সমর্থন দিয়েছি। ইনশা আল্লাহ এই পদ থেকে আমরা ভালো ফল পাব।

প্রথম আলো: দলীয় প্যানেলে প্রার্থী হলেন কেন?

মোস্তাকিম বিল্লাহ: প্রাথমিক পর্যায়ে আমি স্বতন্ত্র হিসেবে ভিপি পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তারা একটি ‘ইনক্লুসিভ’ প্যানেল তৈরি করতে চাচ্ছে এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে রেখেই কাজটি করবে। আলোচনায় আমি তাদের সমর্থন গ্রহণ করি এবং ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই। এই ঐক্য শুধু নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত। নির্বাচনে জয়ী বা বিজয়ী যা–ই হই না কেন, এরপর সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে আমি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাব। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি আগেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, বর্তমানেও নেই এবং শাকসু–পরবর্তী সময়েও হব না।

আরও পড়ুন

প্রথম আলো: জয়ের ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

মোস্তাকিম বিল্লাহ: আমরা জয়ের ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী। ইনশা আল্লাহ ভালো কিছু হবে, এই প্রত্যাশা করছি।

আরও পড়ুন