আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন বলেন, ‘১ তারিখ আপনার ওই নির্বাচনে মার্কা কী? কলার ছড়ি (ছড়া)। আমরা তো ওই প্রার্থীকে চিনি না। কলার ছড়ি (ছড়া) চিনি। আমরা শেখ হাসিনাকে চিনি। আপনি বোঝেন না। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার রাজনীতি বোঝেন আপনি। বোঝেন? আমাদের এখানে কথা আছে, যার আক্কেল আছে, সে ইশারায় বোঝে। আর যে বেক্কল তারে ধাক্কা দিয়া বুঝাইতে হয়। নিজের সম্মান, দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা ও আগামী দিনের যদি স্বপ্ন থাকে, সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য এটি সেমিফাইনাল। এই সেমিফাইনালে জিততে হবে।’

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শক্তি জনমত। এটা কি বাকি আছে কারও জানতে? বাংলাদেশের সবাই জানে। মিডিয়া, টিডিয়া সবাই জানে। নিউজও করতেছে যে আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে নামছে। আওয়ামী লীগের শক্তি যেকোনো জিরোকে হিরো করতে পারে, হিরোকে জিরো করতে পারে। আওয়ামী লীগ সবই পারে। আওয়ামী লীগ একমাত্র হেরেছে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের কাছে। আন্দোলনেও হারে নাই। নির্বাচনেও হারে নাই।’

প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এই নির্বাচনে জয়ী হওয়াটা প্রয়োজন বলে মনে করেন আহমেদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা ট্রাম্প কার্ড বোঝেন। আমরা জনগণের ভোটে পাস করব, ১ তারিখ (১ ফেব্রুয়ারি) জনগণের ভোটে জয় লাভ করব। সন্ধ্যার পরে খবর হবে, এখানে কলার ছড়ি জিতেছে। নৌকা জিতেছে। কলার ছড়ির অপর নাম নৌকা। এইটা মনে কইরাই চলবেন। দেখছেন না, লোক তো সব আওয়ামী লীগের। নাম দিছি সমর্থকগোষ্ঠীর। আসলে নাম তো বলা যায় না। আমারে জিজ্ঞেস করেছিল, ব্যানারে প্রধান অতিথির নাম কী দিব। আহমেদ হোসেনের নাম আছে এখানে। ভাসুরের নাম আসলে দেওয়া যায় না। কিন্তু সবই আমরা।’

বক্তব্যের শেষে আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘মার্কা আছে। কী মার্কা?’ সে সময় উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বলেন, ‘কলার ছড়া, কলার ছড়া।’

আবদুস সাত্তারের সমর্থকগোষ্ঠীর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মিসভায় সভাপতিত্ব করেন আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছফিউল্লাহ মিয়া।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াছিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হান্নান, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের আহমেদ, সহসভাপতি আনিসুর রহমান, কেন্দ্রীয় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহিন সিকদার প্রমুখ।

এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে মঈন উদ্দিন ও শাহজাহান আলম এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

এদিকে বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সরাইল উপজেলা সদরের সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘উকিল আবদুস সাত্তারের সমর্থকগোষ্ঠী’র ব্যানারে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন।

সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. কায়কোবাদের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাশেদ, সদস্য জয়নাল উদ্দিন, মোখলেছুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক শফিকুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আমিন খান, সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন প্রমুখ। সভায় সদর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নাজমুল হোসেন বলেন, ‘উপনির্বাচনে আমাদের কোনো প্রার্থী নেই। এই এলাকার পাঁচবারের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার গণতন্ত্রের স্বার্থে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় নির্দশনা অনুযায়ী এখন সবাইকে তাঁর পক্ষে কাজ করতে হবে। সর্বস্তরের জনগণের কাছে এ বার্তা পৌঁছাতে হবে যে এখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সবাইকে কেন্দ্রে আসতে হবে।’

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে আবদুস সাত্তারসহ চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।