চয়েন প্রথম আলোকে বলে, ‘আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে বাবা সব কষ্ট সহ্য করে নিত। গতকাল খুব সকালে বাবা বেরিয়ে যায়। আমাকে বলে মাদ্রাসায় যেয়ো। আমি সন্ধ্যায় চলে আসব। কে জানত ওই যাওয়াই বাবার শেষ যাওয়া। আর কোনো দিন বাবাকে দেখতে পাব না, আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না। যদি জানতাম বাবা আর ফিরে আসবে না, তাহলে বাবাকে বলতাম, বাবা আমরা তিন বেলা ভাত খেতে চাই না, আমরা এক বেলা ভাত খেয়ে থাকব, তবু তুমি আমাদের সামনে থেকে যেয়ো না।’ এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়ে চয়েন।

চয়েন আরও বলে, ‘বাবা আমাকে বলত, “আব্বা তুমি লেখাপড়া কর, দেখবা আমাদের এই কষ্ট একদিন থাকবে না। আল্লাহ একদিন আমাদের কষ্ট দূর করে দেবে।” কিন্তু আমাদের কষ্ট দূর করতে গিয়েই বাবা দূরে চলে গেল...’

default-image

শুক্রবার পারুলিয়া গ্রামে নিহত রাজ্জাকের বাড়ি গিয়ে কথা হয় তাঁর শ্বশুর আবু মোল্লার (৭০) সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জামাই রাজ্জাকের কোনো জায়গাজমি নেই। পারুলিয়া এতিমখানার পুকুরপাড়ে ছোট একটি ঘরে তুলে থাকেন। বছরখানেক আগে তাঁর হাত ভেঙে যায়। ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। গ্রামের হামিদুর মোল্লা নামের এক ব্যক্তি তাঁকে নির্মাণশ্রমিকের (ঢালাই) কাজে নেন। কাজ না পেলে ধারদেনা করে চলত তাঁর সংসার। তিনটি সমিতি থেকে ঋণ নেওয়া। প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হয় সমিতিকে। অন্যদিকে আট সদস্যদের পরিবার তাঁর একার আয়ের ওপর নির্ভরশীল।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কাজ শেষ করে অন্যদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন রাজ্জাক। পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। আজ সকাল ১০টায় পারুলিয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। বাবাকে হারিয়ে সব আশাই যেন শেষ হয়ে গেছে ছোট ছেলে চয়নের। বাক্‌রুদ্ধ মেয়ে বর্ষা, স্ত্রী নার্গিস সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন