আজ বেলা একটা থেকে চারটা পর্যন্ত আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় আইনজীবীদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর ভূঞা ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দুই আদালতের বিষয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁরা বলেন, তাঁদের দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তাই দুই আদালত প্রত্যাহারের সময় বর্ধিত করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত আইনজীবীরা ওই দুই বিচারকের আদালতে যাবেন না। দাবি মেনে নেওয়া হবে, এমন আশ্বাসে ১৫ জানুয়ারি তাঁরা আদালতে ফিরে গেছেন।

এর আগে ৫ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আইনজীবীদের ৬ কার্যদিবস কর্মবিরতি ও ৪ জানুয়ারি বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতির কারণে জেলার প্রায় দেড় লাখ বিচারপ্রার্থী দুর্ভোগে পড়েন। বিচার পেতে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে আসেন ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ। পরে ১৫ জানুয়ারি থেকে আইনজীবীরা জেলার সব আদালতে ফিরে যান। এতে আদালতের অচলাবস্থা দূর হয়। তবে ওই দুই বিচারকের আদালত বর্জন অব্যাহত রেখেছেন আইনজীবীরা।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহান প্রথম আলোকে বলেন, দুই বিচারককে বদলিসহ নাজিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এখনো পূরণ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সার্বিক সিদ্ধান্ত নিতে বর্তমান সভাপতি তানভীর ভূঞাকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে যদি দুই বিচারককে বদলি না করা হয়, তাহলে এই উপকমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে দেশের সব আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভা হবে। সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, শীতকালীন ছুটির আগে ১ ডিসেম্বর আদালতের শেষ কার্যদিবস ছিল। ওই দিন তিনটি মামলা না নেওয়ায় ১ জানুয়ারি বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা। এরপর ২ জানুয়ারি বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের সঙ্গে আইনজীবীদের বাদানুবাদের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ৫ জানুয়ারি আইনজীবীরা তিন কার্যদিবসের কর্মবিরতির ডাক দেন। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ছয় কার্যদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। এর আগে ৪ জানুয়ারি এক দিনের কর্মবিরতি পালন করে জেলা বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। এতে আদালতে অচলাবস্থার তৈরি হয়।