দেশি অস্ত্র হাতে অনুসারীদের সঙ্গে সড়কে শ্রমিক লীগ নেতা, ভিডিও ভাইরাল

কৃষক হত্যার নেপথ্যে আছেন উপজেলা শ্রমিক লীগ নেতা উজ্জ্বল সরদার। ভুড়কাপাড়া গ্রামে ওই শ্রমিক লীগ নেতার বাড়ি
ছবি: প্রথম আলো

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দুই কৃষককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শ্রমিক লীগ নেতা উজ্জ্বল সরদারসহ অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন লোককে দেশি অস্ত্র হাতে সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর আবার তাঁরা দৌড়ে ফিরে আসেন। ভিডিও চিত্রের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরেও এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভিডিও চিত্রের ওই সড়কটি দৌলতপুর উপজেলার হাটখোলা গ্রামের। গত বুধবার ওই গ্রামে দুই কৃষককে হত্যার আগে ও পরের দৃশ্য এটি। ভিডিওতে শ্রমিক লীগ নেতার হাতে বড় একটি দেশি অস্ত্র দেখা যায়। তাঁর সঙ্গীদের সবার কাছে রামদা, হাসুয়া, ঢালসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল।

আরও পড়ুন

অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার তিন দিনেও তাঁর কোনো হদিস পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এলাকাবাসীর অনেকের ধারণা, শ্রমিক লীগ নেতা উজ্জ্বল সরদার এলাকা ছেড়ে পাশের দেশ ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন।

দৌলতপুর থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা আছে। প্রতিদিন পালা করে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু উজ্জ্বল সরদারের সন্ধান পায়নি। এখন উজ্জ্বলকে ধরাই পুলিশের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, উজ্জ্বল প্রতিনিয়ত তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তবে পুলিশের নজরদারির মধ্যে আছেন তিনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পুলিশ জোরালোভাবে মাঠে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, আজ রাতে ভালো খবর পাবেন।’

আরও পড়ুন

গত বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে দৌলতপুরের হাটখোলা গ্রামে বাড়িতে হামলা চালিয়ে শরিফুল মালিথা (৪৫) ও বজলু মালিথা (৫৫) নামের দুই কৃষককে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৫ জন। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আশঙ্কাজনক তিনজনের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত বজলু মালিথার ছেলে নাহিদ হোসেন বাদী হয়ে ৫৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি শ্রমিক লীগ নেতা উজ্জ্বল সরদার। অজ্ঞাতনামা আসামি ২০ থেকে ২৫ জন। পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।