জাজিরার বিলাসপুরে আবার ককটেল বিস্ফোরণ, মাটিতে বড় গর্ত
শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুরে আবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জানখারকান্দি গ্রামের একটি কবরস্থানের পাশের বাগানে ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
পরে খবর পেয়ে বিকেলে ওই এলাকায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে বিস্ফোরণে জানমালের ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিলাসপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ককটেল তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বিভিন্ন সময় দেশব্যাপী আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন।
জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের জানখারকান্দি গ্রামে ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে বিকট শব্দ শুনে গ্রামের মানুষ এদিক–সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। গ্রামের একটি পারিবারিক কবরস্থানের পাশের বাগানে ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে বাগানের একটি স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে; বিভিন্ন গাছের ডাল ও পাতা ঝলসে গেছে।
গ্রামবাসী ঘটনাটি জাজিরা থানায় জানায়। দুপুরে ওই গ্রামে পুলিশ সদস্যরা যান। সেখান থেকে ককটেল বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এরপর বিকেলে সেখানে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ।
বিলাসপুর ইউনিয়নটি পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা একটি এলাকা। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সময় বিলাসপুরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিলাসপুরের বিভিন্ন পক্ষের লোকজন ককটেল তৈরি করে তা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। গত ৮ জানুয়ারি বিলাসপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর বিভিন্ন সময় পুলিশ ও যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। সেসব স্থান থেকে ককটেল ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এদিকে গত শুক্রবার বিলাসপুরের পাশের জাজিরার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে গিয়ে ককটেল পায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু। সেই ককটেল হাতে নেওয়ার পর সেটির বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে শামসুল মাতবরের ১০ বছর বয়সী ছেলে রাহাতের ডান কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ছয় মাসে জাজিরার অন্তত ১৫টি স্থানে সংঘর্ষে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানখারকান্দি গ্রামের এক বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে ফসলি জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। দেখি, ধোঁয়া উড়ছে। সেই স্থানে ছুটে যাই। কবরস্থানের পাশের একটি বাগানের ভেতর মাটি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বড় একটি গর্ত হয়ে আছে। আমরা ভয় পেয়ে যাই। গ্রামের অনেক মানুষ সেখানে ছুটে আসে। এরপর পুলিশকে জানানো হয়।’
দুই বছর ধরে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে জাজিরার বিলাসপুর দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ বিলাসপুরের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তিনি বিলাসপুরের ওই গ্রামে যান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিলাসপুরে আর যেন কোনো ককটেল বিস্ফোরিত না হয়, সেদিকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য পুলিশকে বলেছি। আজ থেকে এখানে গোয়েন্দারা কাজ করবেন। কোথায় কী হয়, তা খুঁজে বের করতে হবে। খুব শিগগির সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করা হবে।’
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিলাসপুরের একটি নির্জন স্থানে বিকট শব্দে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সম্ভবত মাটির নিচে কোনো পক্ষ ককটেল রেখেছিল। আমরা সেখান থেকে বিস্ফোরণের আলামত উদ্ধার করেছি। ওই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, তা বের করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।