২০১২ সালে শুরু হওয়া বিআরটি প্রকল্পের অধীন ২০১৬ সালে বিশেষ বাস চালুর কথা ছিল। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত জোড়া লাগানো আধুনিক বাস চলবে। এসব বাসের পথ হবে সড়কের মাঝখান দিয়ে। যানজট, সংকেত কিংবা অন্য কোনো কারণে কোথাও বাসের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না। ঘণ্টায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে মাত্র ৮১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এমন অবস্থায় প্রকল্পের গর্ত, খানাখন্দসহ নানা সমস্যায় ১০ বছর ধরেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ। আর এর মধ্যেই রোববার উড়ালপথের একাংশ চালু করা হয়।

উড়ালপথটি উত্তরার হাউজবিল্ডিং থেকে শুরু হয়ে শেষে হয়েছে টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায়। দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে হাউজবিল্ডিং থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত ২ দশমিক ২ কিলোমিটার চালু করা হয়েছে। মোট ৬ লেনের উড়ালপথ এটি। এর মাঝখানের দুই লেন দিয়ে বিশেষ বাস চলার কথা। আর দুই পাশের চার লেন দিয়ে অন্য যানবাহন চলাচল করবে। টঙ্গী থেকে ঢাকায় আসার পথটির কাজ অনেক বাকি আছে। এ পথে ১০ লেনের টঙ্গী সেতুর ৫ লেনের কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

চালু হওয়া উড়ালপথের টঙ্গীর বাটাগেট এলাকায় একটি বাঁকের মাধ্যমে দুটি লেন এক করা হয়েছে। অর্থাৎ স্টেশন রোড থেকে প্রথমে ঢাকামুখী লেনে গাড়ি উঠবে। এরপর সেতুর এ বাঁকে লেন পরিবর্তন করে গাড়িগুলো প্রবেশ করবে ময়মনসিংহমুখী লেনে। এরপর এ লেন ধরেই গাড়ি এসে নামবে সাইদগ্র্যান্ড সেন্টারের সামনে।

পুরো কাজ শেষ না করে উড়ালপথটি চালুর ব্যাপারে বেশ কিছু আপত্তির কথা জানিয়েছিল ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। তারা বলছে, সড়কটি প্রচুর ব্যস্ত। এর মধ্যে অসংখ্য যানবাহনের উড়ালপথে ওঠা বা মাঝপথে লেন পরিবর্তন করতে গিয়ে গতি কমে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে উত্তরার সাইদগ্র্যান্ড সেন্টারের সামনে সড়কের ওপর পথচারী পারাপারে জেব্রা ক্রসিং এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড়ের কারণে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া উড়ালপথে যথাযথ নিরাপত্তাবেষ্টনী, পর্যাপ্ত লেন না থাকাসহ বেশ কিছু অসংগতির কথা জানান তাঁরা।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. আলমগীর হোসেন শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের আপত্তির অধিকাংশই সমাধান হয়েছে। বিশেষ করে উড়ালপথের পাশাপাশি তুরাগ নদের ওপর (বর্তমান টঙ্গী ব্রিজের পাশে) একটি বেইলি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বেইলি সেতু ও উড়ালপথে একসঙ্গে গাড়ি চললে যানজট হবে না। এর বাইরে ডিএনসিসির ময়লার ভাগাড় ও জেব্রা ক্রসিং নিয়েও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলামও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন যান চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।

‘কাজের মাধ্যমে সমালোচনার জবাব’

উড়ালপথের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কখনোই দেশের মানুষের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখাতে পারেনি। গাজীপুরের মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য ঢাকামুখী লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু সরকার কাজের মাধ্যমে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছে।

নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথে সরকার পরিবর্তন হবে না উল্লেখ করে বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, রায় দেবে কারা কারা ‘সেইফ এক্সিট’ (নিরাপদ প্রস্থান) নেবে, কারা ক্ষমতায় আসবে। সেইফ এক্সিট রাজপথে মোকাবিলা হবে। আমরা আন্দোলন রাজপথে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।’

বিএনপির চলমান কোনো সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগ বাধা দিচ্ছে না দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হাসিনা সরকার কতটা উদার! তাদের (বিএনপি) আজ সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে। তারা লন্ডনের ফরমাশে সারা দেশে সভা-সমাবেশ করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের কোনো বাধা দিচ্ছে না। আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের রুটিন ওয়ার্ক জাতীয় নির্বাচন ও জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তাদের কোনো বাধা দেই নাই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান প্রমুখ।