আমরা মুক্তিযুদ্ধকে হাজারবার সম্মান করি: মাগুরায় জামায়াত আমির
নিজেকে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা পৃথিবীর ইতিহাসে একটা লজ্জাজনক ঘটনা। একটা দল সব সময় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে হাজারবার সম্মান করি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ব্যবসা হিসেবে দেখতে চাই না। আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমার যে ভাই জীবন দিয়ে গেছেন, আমি বিশ্বাস করি, তাঁরা বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছিলেন। কোনো দল, কোনো গোষ্ঠী, কোনো পরিবারকে রাজা অথবা রানির সিংহাসনে বসানোর জন্য সেদিন তাঁরা লড়াই করেননি।’
সোমবার মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ থেকে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে এ কথা বলেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের সময় তিনি সভামঞ্চে ওঠেন। রাত পৌনে নয়টায় প্রধান অথিতির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী পর্যায়ে শাসনক্ষমতা যাঁরা হাতে নিয়েছিলেন, তাঁদের থেকে শুরু করে চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে যাঁরা দেশ শাসন করেছেন, কেউ জনগণের ওপর সুবিচার করে নাই। কোনো সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে তারা দুর্নীতি থেকে মুক্ত ছিল।’
গত সাড়ে ১৫ বছর একটা ফ্যাসিস্ট শাসন এই জাতিকে খাবলে–খামছে শেষ করে দিয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি শেষ। আমাদের বিচার বিভাগ শেষ। আমাদের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শেষ। ব্যাংক, বীমা করপোরেশন সেক্টর, ইন্ডাস্ট্রি—সবগুলোকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।’
আসন্ন নির্বাচনকে জাতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে দুটি ভোট হচ্ছে। একটা হচ্ছে গণভোট, আরেকটা হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। গণভোটে হ্যাঁ মানে হচ্ছে আজাদি, না মানে হচ্ছে গোলামি। আপনারা এবার বলুন, গোলামি না আজাদি? গোলামি না আজাদি? ইনশা আল্লাহ দেশবাসী আজাদি চায়। যুবসমাজ আজাদি চায়। তারা বুক পেতে দিয়ে যুদ্ধ করে প্রমাণ করেছে, অন্যায়ের কাছে, দানবের কাছে, আধিপত্যবাদের কাছে আমাদের যুবসমাজ মাথা নত করবে না।’
জামায়াত ক্ষমতায় এলে সব পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন আমির। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবছর তাঁদের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে জনগণের কাছে বাধ্য থাকবেন। জনগণ যাতে নিশ্চিত থাকে যে তাদের কোনো টাকা চুরি হয়ে ওনাদের পেটের ভেতরে ঢোকে নাই। আবালবৃদ্ধবনিতা, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করব। যে অপরাধে একজন পিয়নের বিচার হবে, শাস্তি হবে, একই অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের একই বিচার একই শাস্তি হবে ইনশা আল্লাহ।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাগুরার দুটি সংসদীয় আসনে ১১–দলীয় জোটের দুই প্রার্থী মাগুরা–১ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল মতিন ও মাগুরা–২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ওরফে এম বি বাকেরকে পরচিয় করিয়ে দেন শফিকুর রহমান। তিনি দুই প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে উপস্থিত সবাইকে দুই প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী এ সমাবেশে জামায়াতের পাশাপাশি শরিক দলের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।