ফারুকুল ইসলাম ‘হেরে জীবনে শেষ করিয়া দে’ হুকুম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসামিরা জাফর ইকবালকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান তাঁরা।

গত শনিবার বিকেল চারটার দিকে রায়পুরার মির্জারচর ইউনিয়নের শান্তিপুর বাজার এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থানে দুর্বৃত্তের গুলিতে বিদ্ধ হন চেয়ারম্যান মো. জাফর ইকবাল। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জাফর ইকবাল (৫০) রায়পুরার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল মির্জারচর ইউনিয়ন পরিষদের পরপর দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

মামলার আসামিরা হলেন ফারুকুল ইসলাম ওরফে ফারুক (৪০), ফিরোজ মিয়া (৬২), আবু সাইদ (৩৮), ফরিদ ব্যাপারী (৬৫), সাইদুর রহমান (৩৯), মো. ইব্রাহীম (৪০), মহরম আলী (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বাবুল মিয়া (৪৮), ফয়সাল আহমেদ (৩৮), মো. দুলাল (৩২), মো. ইয়ালী (২৯), নাসির মিয়া (২৪), মজিবুর রহমান (৩৪), রাসেল ওরফে এবাদুল্লাহ (৩৫), মো. নাসির (৩৪), মো. রহজান (২৮), মো. রহমত উল্লাহ (৩৫), মো. শাহজালাল (৩৪), মো. জালাল (৩৮), মো. কামাল (৪৮)। তাঁদের সবার বাড়ি মির্জারচর ও পার্শ্ববর্তী বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে মির্জারচরের বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজের অগ্রগতি বিষয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল। কথা শেষে বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিলে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উল্লিখিত আসামিরা অতর্কিতভাবে জাফর ইকবালকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন (দু-তিনজন মুখোশধারী) ছিলেন। ফারুকুল ইসলাম ‘হেরে জীবনে শেষ করিয়া দে’ হুকুম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসামিরা জাফর ইকবালকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান তাঁরা।

একপর্যায়ে রাসেল ওরফে এবাদুল্লাহ ও নাসির মিয়া চেয়ারম্যানের দুই হাত জোরপূর্বক ধরে রাখে। এ সময় দুলাল তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে চেয়ারম্যানের বুকে গুলি করেন। পরে চেয়ারম্যান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান।

নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, ২০১৫ সালে মির্জারচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন মো. ফারুকুল ইসলাম। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. জাফর ইকবাল। পরবর্তীকালে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান ফারুকুল ইসলামের বাবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ মিয়া। তাঁর সঙ্গেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন মো. জাফর ইকবাল। তাঁর কাছে বাবা-ছেলের এ পরাজয়ের জেরে ছয়-সাত বছর ধরে তাঁরা পরস্পর প্রতিপক্ষে পরিণত হন এবং বিভিন্ন সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রায়পুরা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ জানান, চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে ২১ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মহরম আলী নামের একজন এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার আছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে।