নির্বাচনে কোন প্রার্থীরা শতকোটি টাকার মালিক, কার সম্পদ কত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থী ৮৯১ জন। আর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে শতকোটির মালিক ২৭ প্রার্থী।
শতকোটি টাকার মালিকদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ১৮ জন এবং ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অবশ্য স্বতন্ত্র এই প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত দুজনের মনোনয়ন প্রত্যাহার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) করা ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও টিআইবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বিএনপির শতকোটি মালিক ১৮ প্রার্থীর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ আসনের মো. আমিনুল ইসলামের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬২০ কোটি টাকা, ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টুর ৬০৭ কোটি টাকার বেশি, কুষ্টিয়া-৩ আসনের মো. জাকির হোসেন সরকারের ৫৮১ কোটির বেশি, চট্টগ্রাম-৪ আসনের মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রায় ৪৭৩ কোটি টাকা, ময়মনসিংহ-১১ আসনের ফখর উদ্দিন আহমেদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, কুমিল্লা-৮ আসনের জাকারিয়া তাহেরের ২৯২ কোটি টাকার বেশি, বগুড়া-৫ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের ২৫৬ কোটি টাকার বেশি, চাঁদপুর-২ আসনের মো. জালাল উদ্দিনের ২৩১ কোটি টাকার বেশি, শরীয়তপুর-২ আসনের মো. সফিকুর রহমান কিরণের প্রায় ১৮৬ কোটি টাকা, চাঁদপুর-৪ আসনের মো. হারুনুর রশীদের ১৭৫ কোটি টাকার বেশি, ঢাকা-৭ আসনের হামিদুর রহমানের ১৬১ কোটি টাকার বেশি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের নাসের রহমানের প্রায় ১৪২ কোটি টাকা, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ১১৪ কোটি টাকার বেশি, শরীয়তপুর–১ আসনের সাঈদ আহমেদের ১১১ কোটি টাকার বেশি, ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের (মির্জা আব্বাস) ১০৯ কোটির বেশি, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানমের প্রায় ১০৭ কোটি টাকা, চুয়াডাঙ্গা–২ আসনের মাহমুদ হাসান খানের প্রায় ১০৪ কোটি টাকা এবং রংপুর-৪ আসনের মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১০০ কোটি টাকার বেশি।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এস এস কে একরামুজ্জামানের (প্রার্থিতা প্রত্যাহার) সম্পদের মূল্য ৪৯৯ কোটি টাকার বেশি, টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আলমগীরের ২৮৩ কোটি টাকার বেশি, বাগেরহাট-১ ও ২ আসনের এম এ এইচ সেলিমের প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা, নোয়াখালী-৬ আসনের মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের ১৮৮ কোটি টাকার বেশি, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মো. শাহ আলমের প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা, নরসিংদী-৫ আসনের জামাল আহমেদ চৌধুরীর ১৬০ কোটি, শরীয়তপুর-২ আসনের ফারহানা কাদির রহমানের ১৫৯ কোটি টাকার বেশি, কুমিল্লা–৬ আসনের মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের ১২৯ কোটি (প্রার্থিতা প্রত্যাহার), চাঁদপুর-৪ আসনের মো. আবদুল হান্নানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১২১ কোটি টাকা।