মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের ওপর শুনানি মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ মঙ্গলবার শুনানি মুলতবি করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের পর চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ অবকাশ শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসবেন। এ হিসেবে নভেম্বরে আপিলের ওপর শুনানি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আবুল কালাম আযাদের আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ গত ৬ জুলাই আপিলটি করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে ৪ হাজার ৯১৫ দিন বিলম্ব মার্জনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিতও চাওয়া হয়।
আগের ধারাবাহিকতায় আপিল ও সাজা স্থগিত চেয়ে আযাদের করা আবেদন শুনানির জন্য গত ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগে ওঠে। আযাদের করা আপিল খারিজ চেয়ে সেদিন আবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৬ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী, ইমরান এ সিদ্দিকী এবং আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও মীর ওসমান বিন নাসিম। অন্যদিকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
অবকাশের পর চার সপ্তাহ, অর্থাৎ আদালত খোলার (২৫ অক্টোবর) পর থেকে চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করা হয়েছে বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন মূল আপিল ও আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হবে।
আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত করা হয়েছিল, যার মেয়াদ ২২ অক্টোবর শেষ হচ্ছে, তাহলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী বলেন, এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিতে বলেছেন আদালত।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগে থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগেই তাঁর দেশে ফেরার খবর আসে।
মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। সেদিন শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা ও যতক্ষণ না আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ দেন, ততক্ষণ আবুল কালাম আযাদ যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। সেই বিচার শুরুর পর প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে সেই রায় দেওয়া হয়েছিল।